খুলনার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে

khulna-001খুলনা ব্যুরো ঃ খুলনার রূপসা উপজেলার চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মোড়ল হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও আশ্রয়দাতা চরমপন্থী নেতা মোলা ফরিদ আহমেদ গংরা মামলার বাদীকে হুমকি ও স্বাক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে নিহতের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। সেই সাথে তিনি মোলা ফরিদ গংদের গ্রেফতার করে বিচারের জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম বলেন, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বামনডাঙ্গা এলাকায় বহু স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও খেলার মাঠের প্রতিষ্ঠাতা মোতালেব মোড়লকে গত ১৮ নভেম্বর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। জমি দখল ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় দুর্ধর্ষ চরমপন্থী কিলার মোলা ফরিদ আহমেদ গং এ হত্যাকান্ড ঘটায়।

তিনি বলেন, বামনডাঙ্গা গ্রামের যে বাড়ি ও ধানী জমিতে আমরা বসবাস করি তার পেছনে আঠারবেকী নদীর চর রয়েছে। ওই চরের জমি মোলা ফরিদ আহমেদ সেকেন্ড ইন কমান্ড ও ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ওরফে কালা লীজ নেয়। আমাদের ভোগ দখলীয় জমির সামনের খাস জমি সে লীজ নিয়ে আমাদের রেকর্ডিও জমিও জবর দখল করে নেয়। এ দখলের প্রতিবাদ করলে আমার পিতাকে বেদম প্রহার করে তার গং। এ ঘটনায় কালার নাম উলেখ করে তিনি মামলা করেন। জমি জবর দখলের মামলাটি আদালতে নিম্পত্তি হয় এবং আমার পিতার পক্ষে রায় হয়। এরপর আমাদের জমির ধান তারা জোর করে কেটে নিয়ে যায়। এ  ঘটনায়ও কালার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে কালা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পিতাকে হত্যার হুমকি দেয়। সে ঘটনাও থানায় তিনি জিডি হয়। এ সব  ঘটনায় চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয় কালা গং। এ জন্য আমার পিতাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে তারা। জমি নিয়ে দায়ের করা প্রথম মামলার স্বাক্ষীর দিন সকালে তারা আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার পিতাকে হত্যা করে। তিনি জানান, আলোচিত এই মোলা ফরিদ এক সময়ের বাম আন্দোলনের পুরোধা রতন সেন হত্যা মামলাসহ বহু মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অসংখ্য জিডি রয়েছে।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে উলেখ করেন, আমার পিতাকে হত্যার পর আমার চাচা জুলফিকার রহমান ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জনের নাম উলেখ করে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এজাহারভূক্ত আসামী মহিন উদ্দিন শেখ ও মোঃ মাসুদ মোলা আদালতে ১৬৪ ধারায় চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি প্রদান করেন। সেখানে তারা এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে মোলা ফরিদ আহমেদের নাম প্রকাশ করে। চার্জশিটে তার নাম আসার পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে আমার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। এ ঘটনায় বাদী রূপসা থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি জিডি করে। এরপর মামলার স্বাক্ষী খোকন মোলাকে বাড়ি থেকে ধরে খুলনায় এনে অস্ত্রের মুখে নিজের পক্ষে অ্যাফিডেভিট করিয়ে নেয়ার জন্য স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়েছে। অন্য স্বাক্ষী খায়রুল ইসলামের পিতা মান্নান শেখকে তার লোকজন এলোপাতারি মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে। এখন তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। বাকী স্বাক্ষীদের জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি জানান, আলোচিত মোলা ফরিদের সহযোগী মামলার অন্যতম আসামী কালা মেম্বর দুর্ধর্ষ চরমপন্থী থেকে ভাল হওয়ার জন্য ১৯৯৯ সালে সরকারের সাধারণ ক্ষমার সময় রূপসা থানায় অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করেছিল। কিন্তু সে মুক্তি লাভের পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে অসংখ্য মামলা ও সাধারণ ডায়েরি। এই কালার বিরুদ্ধে আমার পিতারই ৩টি মামলা ও ২টি জিডি রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারী সম্পদ আত্মসাতের মামলা রয়েছে। এই গংদের অন্যতম সন্ত্রাসী ও আমার পিতা হত্যা মামলার আসামী শেখ মহিন উদ্দিনের নামে জোড়া পুলিশ হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাগী এ সব চরমপন্থীদের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এখন আমার পিতার হত্যা মামলা বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হালিম মোলার বাড়িতে লুট হয়েছে উলেখ করে একটি মামলা করেছে। যে মামলায় আমার পিতা হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের জড়ানো হয়েছে।

তিনি তাদেরকে গ্রেফতার পূর্বক আইনে হাতে সোপর্দ করার জন্য দাবি জানান।