বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন

natorশেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি  :
নাটোরের বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ স্বাধীনতা দিবসের সংবর্ধণা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। অনুষ্ঠানের পূর্বমুহুর্তে দেয়া এ ঘোষণায় সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর বারোটায় উপজেলা পরিষদের মুক্ত মঞ্চে প্রতিবারের ন্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। কিন্তু দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস না আসায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ অনুষ্ঠান বর্জন করেন। পরে তারা তোপধ্বনি, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে তারা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের অপর অংশ ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে অনুষ্ঠান বর্জন করা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) মোমিনুল হক ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের বলেন, অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কোন অবহেলা ছিল না। মূলত দু-একজন মুক্তিযোদ্ধা হীন উদ্দেশ্যে আমাদের ভূল বুঝিয়ে একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছি এবং দু-একদিনের মধ্যেই আবার এ অনুষ্ঠান হবে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সরদার বয়েত রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর খান ও আবুল কাশেম শাহ বলেন, মূলত স্থানীয় কিছু নেতারা উপজেলা নির্বাচনে ইউএনও এবং প্রশাসনকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে ভূল বুঝিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা এ বর্জনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উপজেলা প্রশাসন কতৃক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে সকল কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।