দিনাজপুরে ২৫০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষের সম্ভাবনা

dinajpur-14-150x150নুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি :
লিচুর জেলা হিসেবে পরিচিত ও দেশব্যাপী খ্যাত দিনাজপুরে লিচু গাছগুলো ভরে গেছে মুকুলের সমারোহে। সুস্বাদু এই ফল দেশব্যাপী জনপ্রিয় হলেও লিচুর ফলন বাড়াতে ও রোগবালাই দমন করতে লিচু চাষীরা গাছে প্রয়োগ করছে মাত্রারিক্ত বিষ। মানবদেহের জন্য তা কতটুকু সহনশীল বা ক্ষতিকর তা না ভেবেই প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিষ।

মধুমাসের ফল হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের লিচুর বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় মুকুল। মুকুলের সাথে সাথে ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝি ঝি পোকার ঝি ঝি শব্দে এলাকা মুখরিত হতে শুরু করেছে। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রী, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাঠালি উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর এ জেলা থেকে লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় মুকুলের সমারোহই বলে দিচ্ছে এবারে দিনাজপুরে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ও প্রকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার দিনাজপুরে রেকড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে।

চলতি বছর দিনাজপুরে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। এই পরিমাণ জমিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজারের মত গাছ রয়েছে।

লিচু বাগান মালিকরা বললেন, লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু আরোহণ পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সাথে সম্পৃক্তদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। দিতে হয় সেচ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। ভাল ফলনের আশা করলেও হরতালসহ রাজনৈতিক কর্মসূচীর ফলে চিন্তিত কৃষকরা। কারণ গত বছর রাজনৈতিক কর্মসূচীর ফলে লিচুতে লোকসান গুনতে হয়েছে তাদেরকে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বললেন, ভাল ফলন পেতে লিচু গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পোকামাকড়ের উপদ্রম কমাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে তবে অবশ্যই তা পরিমিত মাত্রায়।

তবে অপর এক বিশেষজ্ঞ জানালেন, গত ২ বছর পূর্বে দিনাজপুরে লিচু খেয়ে ১৪ জন শিশু মারা গিয়েছিল। লিচুতে মাত্রারিক্ত বিষ প্রয়োগ করার কারনে এই ঘটনা ঘটেছিল। সঠিক মাত্রানুযায়ী কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন তিনি।

লিচু চাষে ব্যঘাত না ঘটতে চাষীদেরকে দিতে হবে পরামর্শ। কোন সময়ে কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিৎ তা পরামর্শ দিলে ১৪ জন শিশু মারা যাওয়ার মত আর কোন দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটবে না এমনটিই ধারনা সবার।##