বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলে সমুদ্রে শৈবাল চাষের সম্ভাবনা কাজে আসছে না

cox-01এম,শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার : কক্সবাজারে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরীক্ষামূলকভাবে গত ২০১০ সালে দুই প্রজাতির শৈবালের চাষ করার মাধ্যমে দেশে প্রথম এর চাষ শুরু হয়েছিল। তৎসময়ে আশা করা হয়েছিল শৈবাল চাষ করে কৃষকরা ভাগ্য ফেরাতে পারবে। কিন্তু সরকারী উদ্যোগ ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে এই শৈবাল চাষ প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। সমুদ্রে শৈবাল চাষের জন্য উদ্যোগ নেয়া হলে শৈবাল বিদেশে রপ্তানী করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে।

জানা যায়, সামুদ্রিক শৈবাল একটি রপ্তানি যোগ্য পণ্য। বিদেশে সমুদ্র শৈবালের বাৎসরিক উৎপাদন প্রায় ১০ মিলিয়ন টন, যার মূল্যমান ১২ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বে একুয়াকালচার উৎপাদনে শৈবালের অবস্থান দ্বিতীয়। শৈবাল একটি সম্ভাবনাময় জলজ উদ্ভিদ, যার পুষ্টিমান অন্যান্য জলজ প্রজাতির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কক্সবাজারে নারিকেল জিঞ্জিরা তথা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১৪০ ধরনে শৈবাল জন্মায়। তাছাড়া জেলা উপকুলীয় প্যারাবন এলাকাতেও ১০ প্রকারের শৈবাল দেখা যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর আহমদ জানান, বাংলাদেশে শৈবাল চাষ পদ্ধতিও খুব নতুন উদ্যোগ এবং চাষ পদ্ধতিও খুব সহজ। গবেষণা দ্বারা প্রমানিত যে, দেশের উপকূলীয় জলরাশিতে ব্যাপকভাবে শৈবাল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাষের কাঠামো প্রতিষ্ঠাকরণে চাষীদের স্বল্প বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তিনি আরো জানান, গৃহস্থালি উপকরণ, দড়ি, বাঁশ, জাল, প্লাষ্টিক বয়া ইত্যাদি ব্যবহার করে চাষীরা সহজেই এই চাষ শুরু করতে পারে। সৈকতে জোয়ার-ভাটার অর্ন্তবর্তী স্থানে অধিকাংশ শৈবাল জন্মায় ফলে ভুমিহীন চাষীগণ খাস সরকারী অনাবাদি জলাভুমিতে বিনা বাধায় শৈবাল চাষ করতে পারে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর আহমদ আরো জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারে ক্রমশ শৈবালের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া চাষকৃত শৈবালের ভালোমানের ওষুধি গুন থাকায় দেশেও খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, শৈবালে ওষুধি গুন থাকায় সবজি হিসেবে এই শৈবাল খাবার তালিকায় রাখলে দেশের বেশীর ভাগ জনগণ টিউমার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি রোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মানো শৈবাল বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় জনগণ ‘হাইপেনা’ শৈবাল কুড়িয়ে তা শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে এবং কিছু শৈবাল সার হিসাবে ব্যবহার করে।

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রচুর শৈবাল জম্মাচ্ছে। কিন্তু সেখানে পর্যটকদের অবাধে চলাফেরা, নৌ চালনা, পাথর আহরণ ইত্যাদি কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপে শৈবালের উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক উৎস ছাড়াও বিভিন্ন পদ্ধতিতে শৈবাল উৎপাদন ছাড়াও শৈবাল চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রতিষ্ঠিত করা সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা দরকার।