গোবিন্দগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা : গ্রাহক দুর্ভোগ

gaibandha-01মোঃ আঃ খালেক মন্ডল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের শাখা অফিস স্থানান্তর নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকের বর্তমান জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে গ্রাহকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শাখা অফিসটি অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বর্তমান ভবন মালিকের ম“পুষ্ট একটি বিশেষ মহল নিজস্ব স্বার্থে এর বিরোধিতা করছে। ফলে শাখা অফিসটি স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান শাখা অফিসটি যে ভবনে প্রথমে চালু করা হয় তখন গোবিন্দগঞ্জে লোকসংখ্যা যেমন কম ছিল তেমনি গ্রাহক সংখ্যাও ছিল নিতান্ত কম। বর্তমানে উপজেলা সদরে লোকসংখ্যা বেড়েছে। গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে শাখাটির গুরুত্বও বেড়ে গেছে বহুগুণ। ফলে ব্যাংকের জনবল বাড়াতে হয়েছে। অপ্রশস্ত ভবনটিতে ঠাসাঠাসি করে এখন স্টাফদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। শুধু তাই নয়, জরাজীর্ণ ভবনের সিঁড়ি ঘরে ফাটল, ছাদে ধস, ফ্লোরের আস্তর খুলে লোকজনের চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হলেও ভবনের মালিক এ ব্যাপারে নির্বিকার। ফলে প্রতিদিন শত শত গ্রাহককে ওই ব্যাংকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখাটি অন্য কোনো ভবনে স্থানান্তরের অনুমতির জন্যে প্রধান কার্যালয়ে আবেদন পাঠায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে অন্যত্র একটি উপযুক্ত ভবন খোঁজাখুঁজির পর উপজেলা গেটের পাশেই সৌরভ প্লাজা নামে নতুন একটি ভবনের খোঁজ পান। যেখানে অফিসের কার্যক্রম চালানোর উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াও শহরের প্রধান সড়কের ধারে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে যা বর্তমান অফিসটিতে নেই।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই নতুন ভবনটিতে শাখা অফিস স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন করেছেন তখন ওই ভবনটি শহর থেকে বহু পূর্বে এবং গ্রাহকদের এতে দুর্ভোগ বাড়বে এ অজুহাত তুলে একটি মহল ব্যাংক স্থানান্তর কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে ও তারা প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে। কিন্তু বাস্তবে নতুন ভবনটি শহরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানেই অবস্থিত। ওই স্বার্থবাদী মহলের এ হীন প্রচেষ্টার কারণে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় যেমন জটিলতা বাড়ছে তেমনি গ্রাহক ভোগান্তিরও অবসান হচ্ছে না। এ অবস্থায় শাখা ভবন স্থানান্তরে কারো বিভ্রান্তিকর পরামর্শে কান না দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।