গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় অশ্লীল নৃত্যের ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে!

akkelpur mela picএস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় যাত্রাÑসার্কাসের নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে। উৎসুক দর্শকেরা এসব অশ্লীল নৃত্যর ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে তা বাহিরে দেখাচ্ছেন। একজন দর্শক গত শুক্রবার রাতের কয়েকটি পতুল নাচের স্পান্ডেলের ভিডিও চিত্র ধারণ করে এনে তা স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুঠোফোনের মালিক সাংবাদিকদের বলেন, গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় যাত্রাÑসার্কাসের নামে যে অশ্লীলতা হচ্ছে তা বাহিরে বোঝার উপায় নেই। তাই মুঠোফোনে মেলার অশ্লীলতার ভিডিও চিত্র ধারণ করেছি। মেলা কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এগুলো চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ওই ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, একটি পুতুল নাচের স্পান্ডেলে নাচ চলছিল। ওই নাচনীওয়ালীর শরীরে অন্তবাস ও জাঙ্গা ছাড়া কিছুই নেই। কয়েকজন কিশোর দর্শক নাচনীওয়ালীর শরীর স্পর্শ করছে। আরও ভিডিও চিত্রেও আরও কয়েকটি পুতুল নাচের স্পান্ডেলের একই অবস্থা দেখা গেছে।

আক্কেলপুর নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের আহবায়ক ইমদাদুল হক বলেন, গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় যে চিত্তবিনোদনের নামে যা হচ্ছে তা সুস্থ ধারার নয়। মেলার অশ্লীতা রোধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপিনাথপুর দেবোত্তর এস্টেটে গোপিনাথ ঠাকুর জীউ বিগ্রহের দোলযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আবহমান কাল থেকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় শত বছর আগে মেলাটি মাসব্যাপী ধরে চলেছে। এখন মেলাটি পনেরো দিন ব্যাপী চলে। এবার গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় মোট ছয়টি যাত্রাÑসার্কাস মঞ্চ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ১৩ টি শর্ত সাপেক্ষে তিনটির যাত্রামঞ্চের অনুমতি দিয়েছে। মোঃ শাহ জামাল,সভাপতি চাঁপাগাছী স্বনির্ভর সমবায় সমিতি লিমিটেড; প্রধানশিক্ষক, গোপিনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বকুল আহাম্মেদ, সভাপতি বাড়ইল প্রশিক্ষিত যুব সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাহার্যাথের নামে ওই তিনটি যাত্রামঞ্চ পরিচালানার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে দোলপূর্ণিমা মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসনের অনুমতির বাহিরে যাত্রাÑসার্কাসের নামে দশটি ভ্যারাইটি (পুতুল নাচ) শো চলছে। এগুলোতে  দর্শক টানতে স্প্যান্ডেলের পর্দা উঠিয়ে ভেতরে অশ্লীল নৃত্য দেখানো হচ্ছে। দুইটি ভ্যারাইটি শোÑআয়োজক শয়ন ইসলাম জানান, মেলায় এসব ভ্যারাইটি (পুতুল নাচ) শো চালানোর অনুমতি নেই। তারপরও প্রতিবছর মেলায় ভ্যরাইটি শো চলে।  মেলা কমিটি ও মেলার নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে তাঁরা ভ্যারাইটি শো চালান। প্রতিদিন প্রতিটি ভ্যারাইটি শো থেকে ছয়শ থেকে আটশ টাকা করে দেওয়া হয়। একারণে কোন ঝামেলা হয় না। অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন প্রসঙ্গে বলেন, দর্শকেরা যেভাবে চান শিল্পীরা সেভাবেই তাঁদেরকে মনোরঞ্জন করেন।

গোপিনাথপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই দোলপূর্নিমা মেলাটি এলাকার ঐতিহ্য। তবে গত কয়েক বছর ধরে যাত্রাÑসার্কাসের নামে কতিপয় ব্যক্তি মেলার ঐতিহ্য নষ্ট করছে। এবার মেলায় চিত্তবিনোদনের জন্য জেলা প্রশাসন তিনটি যাত্রার অনুমতি দিলেও পর্যায়ক্রমে পাঁচটি যাত্রামঞ্চ চলানো হচ্ছে। এগুলোতে যাত্রা অভিনয়ের চেয়ে অশ্লীল নৃত্য বেশি গুরুত্ব পায়। দর্শকেরাও তাঁদের মুঠোফোনে এসব যাত্রাÑসার্কাসের অশ্লীল নৃত্যের দৃশ্য ধারণ করছেন।

হরিপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, এবার গোপিনাথপুর মেলায় যে অশ্লীলতা  হচ্ছে তা আগে কখনো দেখিনি। সুস্থ ধারার চিত্তবিনোদন দরকার।

যোগাযোগ করা হলে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন সাংবাদিকদের বলেন,ঐতিহ্যবাহী গোপিনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় শর্ত সাপেক্ষে তিনটি যাত্রামঞ্চ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্তভঙ্গ করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউস সাদিক বলেন, মেলায় যাত্রাÑসার্কাসে অশ্লীলতা রোধে মাইকিং করা হয়েছে। অশ্লীলতার অভিযোগে আজ রোববার থেকে ভ্যরাইটি শো বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

গোপিনাথপুর দোলপূুর্ণিমা মেলা কমিটির সভাপতি ও গোপিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়াদ্দার বলেন, যাত্রাÑসার্কাসে নামে কোন অশ্লীলতা হচ্ছে না। মেলা কমিটি সেদিক খেয়াল রাখছে।