জাল ভোট, কেন্দ্র দখলের উৎসব, সহিংসতায় নিহত-৪

upozilaবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, সহিংসতা ও বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন। এতে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হয়েছেন। ঝালকাটির রাজাপুরে সংঘর্ষে মারা গেছেন এক যুবলীগ কর্মী। আখাউড়ায় ব্যালট ছিনতাইয়ের সময় বিজিবির গুলিতে মারা গেছে একজন। কুমিল্লার বরুড়ায় সঙঘর্ষে আহত যুবদল কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা, পুলিশ ও সাধারণ ভোটাররা আহত হয়েছেন। সর্বশেষ পাওয়া খবরে অন্তত নয়টি উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্যন্য দল সমর্থিত প্রার্থীরাও। নির্বাচন বর্জন করে হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি উপজেলায়। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এদিকে কয়েকটি উপজেলায় ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘাত-সহিংসতার কারণে নির্বাচন কমিশন ১০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিএনপি অভিযোগ করেছে প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্র দখলের উৎসব করেছে। নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীকে চিঠি দিয়ে ওই বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কুমিল্লার বরুড়া ও মেঘনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নিজ এলাকা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দিনভর কেন্দ্র দখল ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। এ উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করে হরতালের ডাক দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।
রাজধানীর উপকণ্ঠে ধামরাই উপজেলায় সকালে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্র ঘিরে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে কর্মকর্তারা ওই কেন্দ্র ত্যাগ করেন।