চতুর্থ দফায়ও সংঘাতের আশঙ্কা

বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : গাণিতিক হার নয়, সহিংসতা বাড়ছে জ্যামেতিক হারে। না রাজপথে কোন 15766_upoবিরোধীদল নেই। আন্দোলন নেই, হরতাল অবরোধও নেই। এ সহিংসতা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে। যায় দিন ভালো যায়- পুরনো প্রবাদকে সত্য প্রমান করে নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচন ছিল মোটামুটি সুষ্ঠু। কিন্তু পরাজয় মেনে না নিতে শাসকদের অস্বীকৃতি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে পরিণত করে শক্তিপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে। তবুও পরাজয় এড়াতে না পারায় তৃতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনের মাঠ পরিনত হয় অনেকটা কুরুক্ষেত্রে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার দোর্দদন্ড প্রতাপের প্রদর্শণী ঘটান। যে প্রদর্শনীতে প্রানহানি হয় তিন জনের। ভোট কেন্দ্র দখল আর জাল ভোট পরিণত হয় সাধারণ ঘটনায়। তবে ২৩শে মার্চে চতুর্থ দফার উপজেলা নির্বাচন ছাড়িয়ে যেতে পারে তৃতীয় দাফের সহিংসতাকেও। ইশারায়ই কাফি। ইশারা এরই মধ্যে চলে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরপাকড় শুরু করেছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের। যথারীতি টার্গেট করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে। চতুর্থ দফার উপজেলা নির্বাচনে ভোটের মাঠে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না কি তা কুরুক্ষেত্রে পরিণত হবে এ নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুধবার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন সংসদে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গীদের ভোট না দেয়ার জন্য। অন্যদিকে, নির্বাচনে সহিংসতার প্রতিবাদে সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার জন্য সমালোচনা করেছে নির্বাচন কমিশনের। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনে যে কেন্দ্র দখল এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদেরও সমালোচনা করেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, দেশে যে মূহর্তে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে তখন সন্তোষজনক কারণ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এভাবে ছুটিতে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইন করে তা হতে পারে। তবে এর পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মতই রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজের সাফাই গাচ্ছে। কমিশন বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। কমিশনকে এখন মানদন্ড ঠিক করতে হবে আর কত বিশৃঙ্খলা হলে, আর কত মানুষ মারা গেলে তারা বলবেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।