হারানো বিমানের কোন আলামত মিলেনি বঙ্গোপসাগরে

biman-new-ed20101029215739বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম  : মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে বিস্তীর্ন বঙ্গোপসাগরে নজর রাখছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০টি জাহাজ। আর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান করছে তিনটি জাহাজ। তবে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের কোনো সন্ধান পায়নি নৌবাহিনী। দেশের সমুদ্র এলাকাকে আটটি ভাগে বিভক্ত করে উড়োজাহাজের সম্ভাব্য গতিপথ ধরে এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা সমুদ্রে অনুসন্ধান চালিয়েছে নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ। এরইমধ্যে ছয়টি ব্লকের অনুসন্ধান কাজ শেষ হয়েছে। আগামীকাল বাকি ২টি ব্লকের কাজ শেষ হবে। তারপরও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে নৌ-বাহিনী। অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পর্কে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এ বাহিনী। বুধবার নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানানো হয়।  অনুসন্ধানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিরেক্টর (নেভাল অপারেশন) কমডোর এস এম হাকিম ও নৌগোয়েন্দা পরিচালক কমডোর এম রাশেদ আলী। এ সময় অনুসন্ধান কাজের ভিডিও ক্লিপিংসও দেখানো হয়। সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী এনডিসি পিএসসি উপস্থিত ছিলেন। এস এম হাকিম জানান, ১৪ই মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পরই নৌবাহিনীর জাহাজ ওমর ফারুক মালয়েশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। ১৫ই মার্চ উড়োজাহাজের খোঁজে অনুসন্ধানে যোগ দেয় জাহাজ বঙ্গবন্ধু। এরপর ১৮ই মার্চ সমুদ্র জয় ওমর স্থলে অনুসন্ধানে যোগ দেয় জাহাজ সমুদ্র জয়। নেভাল ডিরেক্টর এস এম হাকিম জানান, শক্তিশালী বাইনোকুলার, রাডারের সাহায্যে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সমুদ্র শান্ত ও পূর্ণিমা থাকায় রাতেও অনুসন্ধান কাজ চালানো সহজ হচ্ছে। তিনি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের অনুসন্ধানে ৩২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে ২৭ হাজার এবং পঞ্চম দিনে ২৮ হাজার ৪৪৮ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ৫ দিনে মোট ৮৭,০৫৯ কিলোমিটার এলাকা অনুসন্ধান সম্পন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরা ট্রলারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই এলাকা দিয়ে উড়োজাহাজটির যাওয়া কিংবা যদি বিধ্বস্ত হয়ে থাকে, তাহলে উড়োজাহাজের ভগ্নাংশ, সমুদ্রে ভাসমান তেলের লাইন, যাত্রীদের জামা-কাপড়সহ কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যায়নি। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নৌবাহিনীর এ অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।