সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

pmবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে শিশুদের ব্যবহার না করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও আদর্শে শিশুরা বেড়ে উঠবে। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদককে বর্জন করে লেখাপড়া, খেলাধূলা ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের সেবা করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস  উপলক্ষে সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় আয়োজিত শিশু  সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিশু লুবাইনা রুবাব সাফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, শিশু শাহরিয়ার আলম মাহিন প্রমূখ। শিশুদের কল্যানে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কোন শিশুই রাসেলের মতো নির্মম হত্যা কান্ডের শিকার হবে না। কোন শিশুই না খেয়ে দিন রাত কাটবে না। নিরক্ষর থাকবে না। শিশুরা নিরাপদ ও সুন্দর জীবন পাবে। তাদেরকে আদর স্নেহ দিয়ে বড় করুন। বড় হয়ে যেন তারা সত্যিকার দেশপ্রেমিক ও সু নাগরিক হয়ে মানুষের কল্যানে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। প্রথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেন। আমরা ২০১১ সালে শিশুনীতি প্রণয়ন করেছি । শিশুর শারিরিক, মানসিক নির্যাতন ও বৈষম্য বন্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। শিশুদের জন্য প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছি। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় খেলার সরঞ্জাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণীতে উন্নিত করে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছি। শতভাগ শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধূলা ও সাংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা করেছি। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি ২০২১ ও ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী প্রজম্মের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের বর্তমানকে আমরা শিশুদের জন্য উৎসর্গ করি। আসুন মেধা মননে সেরা একটি আগামী প্রজম্ম গড়ে তুলি। আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিশু একাডেমী আয়োজিত সাহিত্য সাংস্কৃতিক চিত্রাংকন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরন করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিশু ও মহিলা বিষয়ক সচিব তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান ও গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান। এরপর গোপালগঞ্জ শিশু একাডেমীর শিশু শিল্পীরা ‘চির ভাস্মর  বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক কাব্য নৃত্য গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী  সমাধিসৌধ কমপে¬ক্সে জাতীয় গ্রস্থ কেন্দ্র  আয়োজিত দিনব্যাপী গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল সাড়ে ১০ টায়  প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে আসেন। প্রথমে.প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ফাতেহা পাঠ করেন। দোয়া ও মোনাজাত করা হয় বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায়। পরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পুস্পস্তক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। প্রেসিডেন্ট সমাধি সৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধূরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ,আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খায়রুল আলম খান, বঙ্গবন্ধু ইনষ্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার এ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজের পরিচালক প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, শেখ হেলাল উদ্দিন, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নূর ই আলম চৌধূরী লিটন, শেখ মো. আব্দুল্লাহ প্রমুখ।