বন বিভাগের নার্সারীর ৭০হাজার চারাগাছ নির্দয় ভাবে গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তচক্র

cox-01এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :অমানবিক আর নির্দয় ভাবে বন  বিভাগের নার্সারীর ৭০ হাজার চারাগাছ কেটে ও গুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত চক্র। গত ১৬ মার্চ রাতের কোন এক সময় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জাধীন ফুলছড়ি বনাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটেছে। কি কারণে নার্সারীটি ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে সে বিষয়ে বনবিভাগও কিছু জানাতে পারেনি। তবে এলাকাবাসির ধারনা বনায়ন বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবাদের এ ধরনের অমানবিক ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

গতকালসোমবার ১৭ মার্চ সকালে বনবিভাগের উর্ধবতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। বিশ্ব ব্যাংকের অর্ধায়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে অংশীদারিত্ব বনায়নে রোপনের জন্য ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে এই নার্সারীটি সৃজন করা হয়েছিল।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে বনভুমিতে ২০১৩-১৪ সালের অংশীদারিত্ব বনায়নে রোপন করার জন্য ফুলছড়ি বনাঞ্চলে একটি বৃৃহদাকারের নার্সারী গড়ে তুলেন বনবিভাগ। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এই নার্সারীতে বিভিন্ন বেডে প্রায় ৭০ হাজার চারাগাছ দিনদিন বেড়ে উঠছিল। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা। বনকর্মী ও বনজায়গীরদাররা নিয়মিত এই নার্সারীর চারাগাছের পরিচয্যাও করে আসছিল। প্রায় ৭০ হাজার চারাগাছরোপন উপযোগী হওয়ার পূর্বেই গত ১৬ মার্চ রাতেরকোন এক সময় হানাদেন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত চক্র। এই চক্রটি ৭০ হাজার চারাগাছকে নির্দয় ভাবে কেটে ফেলার পাশাপাশিবেড় গুড়িয়ে দেয় এবং চারাগাছের টবগুলোও কুপিয়ে নষ্ট করে দেয়। গতকালসোমবার সকালে বনকর্মী ও বনজায়গীরদাররা নার্সারী পরিচর্যা করতে গিয়ে এই তান্ডবতাদেখতে পান।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে ওই ঘটনাস্থলে পরির্দশনে যান সহকারী বন সংরক্ষক (ফুলছড়ি) আসলাম মজুমদার, রেঞ্জ কর্মকর্তা ভুপেষ মুখার্জী, ফুলছড়ি বনবিট কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন,কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আবদুল কুদ্দুচ মাখন, ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ফরিদুল আজিম দাদা, ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মাষ্টার, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, ফুলছড়ি বনবিটের হেডম্যান আশরাফ আলীসহ অন্যান্যরা।

এদিকে, নার্সারীর ৭০ হাজারটি চারাগাছ নষ্ট করার ব্যাপারে কারা জড়িত,কেনই বা এ ধরনের নির্দয় কাজ সংগঠিত করা হয়েছেসে বিষয়ে বনবিভাগ কিছুই জানাতে পারেনি। তবে তারা এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবী করেন ফুলচড়ি বন বিট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন।

অপরদিকে, একটি সুত্র জানিয়েছেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সৃজিত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ফুলছড়ি বনবিটের অর্ধীনে অংশীদারিত্ব বনায়ন বরাদ্দ প্রত্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ কাজে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে গত কিছু দিন ধরে বিভিন্ন লোকজন এনিয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষোভ আর নার্সারী ধবংসের জন্যই পরিচকল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি সংগঠিত করা হয়েছে বলে ধারনা করছে এলাকার অনেকে।