সেনবাগে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ শেষ

Nawkhaliমোঃ জাহাঙ্গীর আলম,নোয়াখালী প্রতিনিধি:

তৃতীয় দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালীর সেনবাগে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ,ব্যাপট পেপার ছিনতাই,কেন্দ্র দখল ও গুলি বর্ষনের ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকার পর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রিটের নিদের্শে আবারো ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় আইশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর ৩৩রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় দুর্র্বত্তদের ছোঁড়া গুলিতে ৯নং নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন (৫০)গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে: উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের আইডিয়াল একাডেমি কেন্দ্র ,৯নং নবীপুর এসফাকুল হক মান্না মাদরাসা , গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ,১নং ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতারপাইয়া দারুল উলুম কাওমী মাদ্রাসা কেন্দ্র , চিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও লুধুুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ।

নবীপুর এসফাকুল হক মান্না মাদরাসা কেন্দ্রর প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ও স্থানীয় লোকজন জানায় , বেলা ১টার দিকে ৮/১০জনের একদল দুস্কুৃতিকারী গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে (মোটন সাইকেল প্রতিকে )সিল মারে। এ সময় অপর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা বাঁধা দেওয়া চেষ্টা করলে দুস্কৃতিকারীদের ছোঁড়া গুলিতে নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।প্রায় একই সময় ওই ইউপির গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্ত্রে দুস্কৃতিকারী প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারে। এতে আধাঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

পশ্চিম ছাতারপাইয়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কাজী ছৈয়দের রহমান ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনারস মার্কার সমর্থক ৪/৫ জনের একদল দুস্কৃতিকারী ধারালো অস্ত্র (দামা) নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তারা চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৬টি অব্যবহৃত ব্যালট পেপার এবং ১৭টি মুড়ি  ও একটি ষ্ট্যাম্প (সিল) ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই সময় কর্তব্যরত আইশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সদস্যরা তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে এই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে একই ইউনিয়নের চিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন জানান-বেলা ১২টার দিকে একদল দু®কৃতিকারী ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তিনি ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে আবারো ভোটগ্রহণ শুরু।

অপরদিকে উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের আইডিয়াল একাডেমি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং মোহাম্মদ শাহাজাহান জানান-বেলা সোয়া ১২টার দিকে ৭-৮ জনের একদল অজ্ঞাত দুস্কৃতিকারী ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে (মোটর সাইকেল প্রতিকে)সিল মারতে থাকলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ২০ রাউন্ড  শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে । আধাঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকার পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

#