খুলনায় চালের বাজার উর্ধ্বমুখী

khulna-001খুলনা থেকে ডাঃ আওরঙ্গজেব কামালঃ আমন মৌসুম শেষ না হতেই খুলনায় চালের মূল্য উর্ধ্বমুখী। প্রকারভেদে চালের মূল্য সপ্তাহান্তে বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ২ টাকা। ব্যবসায়ীরা মূল্য বৃদ্ধির পিছনে এলসিতে ডলারের দাম বৃদ্ধি, ধানের সংকটসহ তিনটি প্রধান কারণকে দায়ী করেছেন। এ কারণেই চালের এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে তাদের অভিমত। তবে আকস্মিক চালের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ক্রেতারা। নগরীর ক্লে রোডের পাইকারী ও খুচরা চাল ব্যবসায়ী আল ফালাহ ট্রেডিং-এর সত্বাধিকারী মোঃ মহিদুল হক বলেন, ভারতীয় এলসিতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ও ২৯ মিনিকেট ধানের সংকটের কারণে সপ্তাহে কেজি প্রতি চালে দেড় থেকে দুই টাকা বেড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চালের মূল্য আরও বাড়তে পারে।আমদানিকারক মাহবুব ব্রাদার্সের প্রতিনিধি নিখিল সাহা জানান, নগরীর বাজার ভারতীয় চালের ওপর নির্ভরশীল। আমদানি চাল এখান থেকে ফরিদপুর, যশোর ও গোপালগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে। আমদানিকৃত চালের পাইকারী মূল্যও বেড়েছে।

বড় বাজারের পাইকারী চাল ব্যবসায়ী এনসিডি বাণিজ্য ভান্ডারের ব্যবস্থাপক মধুসূদন দাস জানান, মিনিকেট, আঠাশ বালাম ও বাংলা মতি জাতের চালের সংকট রয়েছে। বড় বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যমতে উপরোক্ত তিন জাতের চালের দাম বেড়েছে। মিনিকেট প্রতি কেজি ৪৬ পরিবর্তে ৪৮ টাকা, আঠাশ বালাম ৩৬ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা এবং বাংলামতি নামক চাল ৪৬ টাকার পরিবর্তে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভাইটেল ৪৩ টাকা ও ইরি আতপের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখার তথ্যমতে, সপ্তাহে চালের মূল্য সামান্য অস্থিতিশীল হয়েছে। সপ্তাহের মধ্যে তা স্থিতিশীল হবে।টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের দোকানী আব্দুল মালেক জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে আঠাশ বালাম জাতের চাল ৩৭ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা এবং বাংলামতি নামের চাল ৪৭ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ সময় আগত খুচরা ক্রেতা গৃহিনী মুনিয়া বেগম বলেন, দু’দিন পর পর সব কিছুর দাম বাড়ছে। অত্যন্ত চালের দামটা তো স্থিতিশীল থাকুক।কয়রা উপজেলার ঘড়িলাল বাজারের ডিপার্টেমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী জিএম অহেদুজ্জামান খোকন জানান, প্রতি কেজি খুলনা থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বহন খরচ যোগ করলে তৃণমূল পর্যন্ত মূল্য তো একটু বাড়বেই। তার দেয়া তথ্যমতে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আঠাশ বালাম জাতের চাল ৩৬ টাকার পরিবর্তে ৩৯ টাকা এবং বাংলামতি নামের চাল ৪৬ টাকার পরিবর্তে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।