সরকারের মন্ত্রীসভায় ইসলামবিদ্বেষীরা আস্তানা গেঁড়েছে : হেফাজতে ইসলাম

indexউপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ ও হাদিস বিশারদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের চেয়ারম্যান, দারুল উলূম হাটহাজারীর মুহতামিম দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেম শায়খুল আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে ‌বিগত ১২ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ‘বদমাইশ’ বলে গালি দিয়ে ভূমিমন্ত্রী শাহমসুর রাহমান ডিলু চরম বেয়াদবির যে স্পর্ধা দেখিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভায় ইসলাম ও আলেম-ওলামা বিদ্বেষী নাস্তিকদের দোসর ও মূর্খ জাহেলরা আস্তানা গেঁড়েছে। যারা সমাজে মেম্বারি করার যোগ্যতা রাখে না, তারা মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়ে নিজেদের  ‘মুই কী হনু রে’ ভেবে অর্বাচীনদের মতো যাচ্ছেতাই আচার-আচরণ করে যাচ্ছে। তারা ভোটারবিহীন তথাকথিত নির্বাচনে গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে তথ্যমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আল্লামা আহমদ শফী ও আলেম-ওলামা সম্পর্কে কটূক্তি করে জনরোষ থেকে শেষপর্যন্ত রেহাই পাননি। সুতরাং বর্তমান ভূমিমন্ত্রীর পক্ষেও দেশবরেণ্য আলেম আল্লামা শফীকে নিয়ে তার সাম্প্রতিক এই অসভ্য ও বেয়াদিবমূলক গালিগালাজের কারণে জনরোষ থেকে রেহাই পাবে বলে আমরা মনে করি না।

হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কতিপয় মন্ত্রী-এমপির নাস্তিক্যবাদী আচরণ ও মনোভাব, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মবিশ্বাস, সভ্যতা ও মূল্যবোধ-বিরোধী অবস্থান এবং আলেম-ওলামা ও নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার ঈমান-আক্বীদা বিরোধী প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও তৎপরতা দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে দেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংসের আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলছে। তারা বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ক্ষমতা পেয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না। ফেরাউন-নমরুদদেরও ক্ষমতা কম ছিল না, বর্তমানেও যারা ফেরাউনি আচরণ করবে, তাদের শেষরক্ষা হবে না। ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের উস্কানি দিয়ে দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা সাম্রাজ্যবাদী ও ব্রাহ্মণ্যবাদী অপশক্তির দেশীয় এজেন্ট। এরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। এদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করা নাগরিক কর্তব্য।

হেফাজতে ইসরাম নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড এসব ক্ষুদ্রসংখ্যক লোকের কারণে ধূলোয় মিশে যাচ্ছে। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হবে। এদের কারণেই ক্ষমতাসীন সরকার ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মন্ত্রীপরিষদ থেকে প্রিয় নবী (স.)-এর যোগ্য ওয়ারিশ দেশের বর্ষীয়ান আলেম লক্ষ লক্ষ জনতার পীর ও মুর্শিদ শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী সম্পর্কে কটূক্তিকারী ভূমিমন্ত্রীকে অপসারণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান।

বিবৃতিদাতা হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ হলেন, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা হাফেজ শামসুল আলম, মাওলানা আবদুল মোমেন শায়েখ ইমাম বারী, মাওলানা নূর হোসাইন কাছেমী, মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জি, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা সাজেদুর রহমান বিবাড়িয়া, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোস্তফা আজাদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, মাওলানা জিয়াউদ্দিন, মাওলানা মোশতাক আহমদ প্রমুখ।