রংপুর সুগার মিলে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত

gaibandha-01আঃ খালেক মন্ডল,গাইবান্ধা থেকে  ঃ গাইবান্ধা জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর সুগার মিলে তিন বছরের সাড়ে ৩১ কোটি টাকার ৮ হাজার ২শ ৪৩ মে.টন  চিনি অবিক্রিত থাকায় আখ চাষিদের পাওনা প্রায় ১৩ কোটি টাকা পরিষোধে ব্যার্থ হয়েছে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। সরকারী ভাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০ টাকা করে কমানোর পরও সুগার মিলের চিনি কেউ ক্রয় করছে না।

জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর ৭০ হাজার মে.টন আখ মাড়াই করে সাড়ে ৪ হাজার মে.টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রংপুর সুগার মিলে ২০১৩-২০১৪ আখ মাড়াই মৌসুম চালু করা হয়। মিলটি চালু হওয়ার পর থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৭৩ দিনের মাথায় এ সুগার মিলে প্রায় ৫ হাজার মে.টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। রংপুর সুগার মিলের গোডাউনে এখনও ২০১১-১২ মৌসুমের ৫শ ৬ দশমিক ৩৫ মে.টন, ২০১২-১৩ মৌসুমের ২ হাজার ৭শ ৩৭ মে.টন ও ২০১৩-১৪ চলতি মৌসুমের ৫ হাজার মে.টন সহ মোট প্রায় ৮ হাজার ২শ ৪৩ দশমিক ৩৫ মে.টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা। দেশে সরকারী সুগার মিলের চাইতে বে-সরকারী সুগার মিলের চিনির দাম কম হওয়ায় চিনির বাজার ঠিক রাখার জন্য বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন গত ৯ ফেব্রুয়ারী সরকারী সুগার মিল গুলোতে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০ টাকা করে কমানোর পরও এখন পর্যন্ত সরকারী মিলের চিনি ক্রয় করছে না। একটি বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে, সরকারী সুগার মিল গুলোতে চিনির দাম কমানোর সাথে সাথে বে-সরকারী সুগার মিল গুলোও চিনির দাম কমিয়ে ফেলায় সরকারী মিলের চিনি কেউ কিনছে না। এব্যাপারে গত মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজন চিনি ডিলারের সাথে কথা বললে তারা এ প্রতিনিধিকে জানান, কমদামে চিনি পাওয়ায় আমরা বেশিদামে চিনি কিনলে আমাদের লাখ লাখ টাকা লোকশান করতে হবে। কারণ বাজারে আমরা বেশি দামে চিনি বিক্রি করতে পারছি না। দেশের বে-সরকারী সুগার মিল গুলোর সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে সরকারী সুগার মিল গুলোর কোটি কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিকে রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমাদের কাছ থেকে আখ চাষিদের পাওনা রয়েছে ১৩ কোটি টাকা। অথচ আমাদের চিনি মজুদ রয়েছে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার। চিনি বিক্রি হলে চাষিদের পাওনা পরিষোধ করার পরও আমাদের ফান্ডে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জমা রাখা যাবে। তাই চিনি বিক্রি হওয়ার সাথে সাথেই আমরা আখ চাষিদের পাওনা পারষোধ করতে পারবো বলে তারা জানান।