ঝিনাইগাতীতে আদিবাসী পিটার মারাক সফল কলা চাষী

Banana=1মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী ঃ  শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার অদিবাসী পিটার মারাক (৫০) একজন সফল কলা চাষী। পিটার মারাক নলকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিন ডেফলাই গ্রামের মৃত অদেন্দ্র সাংমার ছেলে। সরেজমিন পরিদর্শন ও পিটার মারাকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আদিবাসী পিটার মারাক একজন ক্ষুদ্র চায়ের দোকানদার। বাড়ী সংলগ্ন গ্রামের সড়কের সাথে ছোট্ট একটি ঘরে সে ও তার স্ত্রী সুলেখা মানখিন চায়ের দোকান করে।  ১ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে মেয়ে বিবাহ করে একই বাড়ীতে বসবাস করছে আর ছেলে ঢাকায় থেকে পড়াশুনা করছে। পিটার মারাক ও তার স্ত্রীর সামান্য আয় দিয়ে কোন মতে সংসার চালিয়ে আসলেও সংসারে স্বচ্ছলতা না আসায় পিটার মারাক ভাবতে থাকে সামান্য দোকানের আয় ছাড়াও আরও বাড়তি আয়ের প্রয়োজন, তা না হলে তার সংসারে স্বচ্ছলতা আসবেনা। তার এ ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় দেশীয় জাতের সাগর কলা চাষ করার। যেই ভাবনা, সেই কাজ। দেরী না করে তার বাড়ী সংলগ্ন পড়ে থাকা পতিত ৬০ শতাংশ জমিতে কলা চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, বিভিন্ন স্থান থেকে দেশীয় ৮৫০টি সাগর কলার চারা সংগ্রহ করে তার জমিতে রোপণ করে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগীতা ছাড়াই পিটার মারাকের একক পরিকল্পনা ও ফর্মুলায় কলা বাগানের পরিচর্যা শুরু করে। তাকে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করে তার স্ত্রী সুলেখা।  কালা বাগান চাষের শুরু থেকে প্রতিটি গাছে কলা আসা পর্যন্ত  সময়ে মোট খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। মাত্র ১০ মাস বয়সে ৮ শত ৫০টি গাছেই আর্কষনীয় কলা ধরেছে। একবার দেখলেই খেতে মন চায়। যা বর্তমানে পাইকরা ৯০ হাজার টাকা দাম করছেন। বাগান মালিকের ধারনা ১ লাখ টাকা দাম হবে, আর  এতে খরচ বাদে  মাত্র ১০ মাসের আবাদের বিনিময়ে তার নীট লাভ হবে ৬৫ হাজার টাকা। পিটার মারাকের কলার বাগান দেখে ওই গ্রামের হাকিম, শহিদসহ অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন কলার বাগান করার। পিটার মারাক এই  কলার বাগান করে লাভবান হওয়ায় সে খুব খুশি।