‘চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না’ : অর্থমন্ত্রী

b7429_59139বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : চলতি অর্থবছর সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান বৈশ্বিক মন্দার প্রত্যক্ষ প্রভাব রাজস্ব আদায়ের ওপর পড়েছে বলে জানান তিনি।

আজ বুধবার দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখি হওয়ার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত কয়েক মাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। তা ছাড়া বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার ৫ থেকে ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া, গত বছরের তুলনায় আয়কর রিটার্ন ও রিটার্নের সঙ্গে আদায়কৃত আয়কর কম হওয়া, বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার আয়কর রেয়াতের পরিমাণ ও হারের পরিবর্তন, আমদানি পর্যায়ে উৎসে কর থেকে আদায়ের পরিমাণ কমে যাওয়া, রফতানি পর্যায়ের উৎসে কর থেকে আদায়ের পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়া, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মাধ্যমে কম রাজস্ব আদায়, বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে সেবা খাত থেকে উৎসে কর কর্তন কম হওয়ার কারণেও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিড়ি-সিগারেট, ওষুধ, সিমেন্ট, বেভারেজ, পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাস, নারিকেল তেল, এমএম রড, স্ক্যাপ, টাইলস খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অনেক কম আদায় হয়েছে। সেবা খাতের মধ্যে মোবাইল ফোন, ব্যাংক-বীমা সংস্থা, হোটেল, ইন্টারনেট, ইজারাদারের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম মূসক আদায় হওয়ার কারণেও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের উত্তরে আবদুল মুহিত বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫০ হাজার ৩৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত হাজার ১৮০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা কম।

এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। গত বছর ব্যাংকটির অনিরীক্ষিত মুনাফার পরিমাণ এক হাজার ৫৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এই ব্যাংকটির অনিরীক্ষিত মুনাফার পরিমাণ এক হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

২০১৩ সালের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকগুলোর তালিকা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে সরকারি তপসিলভুক্ত ব্যাংক জনতা। চার নম্বরে এইচএসবিসি, পাঁচ নম্বরে রয়েছে অগ্রণী ও ছয় নম্বরে রয়েছে পূবালী ব্যাংক।

এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে অন্য ব্যাংকগুলো হলো প্রাইম ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ও ব্র্যাক ব্যাংক।