খুলনা-যশোর অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে ধর্মঘট শুরু

khulna-001খুলনা ব্যুরো ঃ মজুরী কমিশনের ৪র্থ কিস্তির টাকা ক্যাশ স্লিপে প্রদানসহ ১১দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনায় ২৪ ঘন্টা ধর্মঘট পালন করছে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা। বুধবার ভোর থেকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক এ কর্মসূচি পালন করছে। ভোর ৬টায় খুলনার ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে মিল গেটে সমাবেত হয়। পরে এক শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক নেতারা। সমাবেশ শেষে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিলটি খুলনা-যশোর মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে স্ব স্ব মিল গেটে শেষ হয়।পাটকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহ আলম, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ হোসেন ও তরিকুল ইসলাম এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে ৪র্থ কিস্তির টাকা ক্যাশ স্লি¬পের মাধ্যমে প্রদানের জন্য বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।মিলগুলো সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানায় মুজরী কমিশন ঘোষণা করে। ওই কমিশন ২০০৯ সালের জুলাই বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। সরকারি গেজেট ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত মুজরী কমিশনের টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের কথা। সে অনুযায়ী এ বকেয়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনটি কিস্তির টাকায় শ্রমিকদের ক্যাশ স্লিপের পরিশোধ করা হয়। তবে, শ্রমিকদের মজুরী কমিশনের এ অর্থগুলো পেতেও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। সর্বশেষ মজুরী কমিশনের চতুর্থ কিস্তির টাকা প্রদান বিষয়ে বাঁধে জটিলতা। অর্থমন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা অনুয়ায়ী বিজেএমসি শ্রমিকদের এ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ অর্থ পূর্বের ৩টি কিস্তির মতো ক্যাশ স্লিপের প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছেন। খুলনা-যশোর অঞ্চলসহ দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে শ্রমিকরা আন্দোল কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ দাবিতে শ্রমিকরা গেটসভা, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। মিলের শ্রমিকদের আন্দোলনে মিলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।