সেনবাগে বিএনপির দুই প্রার্থী ও জোটের বিভক্তিতে সুযোগ নিতে মরিয়া আওয়ামীলীগ

Senbag Pic 12 March 2014 (1)মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,নোয়াখালী সংবাদদাতা:
আগামী ১৫মার্চ অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও ১৯দলীয় জোটের শরীক জামায়াত জোটে থাকলেও ভোটে না থাকার কারনে এবার সুযোগ নিতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী। কাগজে কলমে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও মূলত বিএনপির তৃনমূলের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (কাপ পিরিচ) ও আওয়ামীলীগের লায়ন এসএম জাহাঙ্গীর আলম মানিক (মোটর সাইকেল) এবং (সদ্য বহিস্কারদেশ প্রত্যাহার) হওয়া বিএনপির অপর নেতা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী মফিজুর রহমানকে (হেলিকপ্টার) মার্কাকে ঘিরে ভোটারদের যতসব আলাপ আলোচনা।

খোঁজ নিয়ে গেছে, চেয়ারম্যান পদে দলীয় দুই জন করে প্রার্থী নিয়ে বেকাদায় পড়েছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ । উপজেলা বিএনপির তৃনমূল নেতাদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী হয়েছেন-সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ (কাপ-পিরিছ)। আবুল কালাম আজাদের পক্ষে এলাকায় সার্বক্ষনিক অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক বিরোধীদলীয় চীফহুইপ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক। জয়নুল আবদিন ফারুক ইতিমধ্যে আরেক প্রার্থী তার চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ আল মামুনকে (দোয়াত কলম) মার্কা গত ৭মার্চ আবুল কালাম আজাদের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। এতে আবুল কালাম আজাদের পক্ষে জনমত ভাড়লেও (সদ্য বহিস্কারআদেশ প্রত্যাহার হওয়া) আরেক প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী মফিজুর রহমানের (হেলিকপ্টার) মার্কা কারনে চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। কাজী মফিজুর রহমান নিজেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচার করে যাচ্ছেন। এদিকে ১৯ দলীয় জোটের অপর শরীক জামায়াত জোটে থাকলেও এবার তার ভোটে নাই। কারণ চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকায় তারা তাদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণায় সাথে ভেতরে ভেতরে কাজী মফিজকে সর্মথন দিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকার রাজনৈতিক মহলে জোর প্রচার রয়েছে। তবে জামায়াত বলেছে-তারা কোন প্রার্থীকে এককভাবে সমর্থন দেননি।

অন্যদিকে, আওযামীলীগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত স্থানীয় এমপি মোরশেদ আলম জেলা কমিটির সহযোগীতায় তার (ভায়রা) গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (ভিপি মোস্তফাকে) এবং তৃনমূল নেতাদের ও কেন্দ্রের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন- জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি লায়ন এসএম জাহাঙ্গীর আলম মানিক (মোটর-সাইকেল)।তবে’এখনো ভিপি মোস্তফা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। আওয়ামীলীগের ধারণা বিএনপির দুই প্রার্থী ও জোটের শরীক জামায়াতের সঙ্গে সাবেক বিরোধীদলীয় চীফহুইপের টানাপোড়েন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভিপি মোস্তফা নির্বাচনে থেকে সরে দাড়ান। তবে; বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে লায়ন এসএম জাহাঙ্গীর আলম মানিক।

ভোটারদের সরব এসব আলাপ আলোচনায় স্থান পাচ্ছে উল্লেখিত প্রার্থীদের অতীত কর্মকান্ড, শিক্ষাদীক্ষা, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা। একই সাথে আলোচনা হচ্ছে বর্তমান আওয়ামীলীগের সরকারের সময়ে কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে অবহিত এ এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। চলছে প্রার্থীদের উপযুক্ত, আর অন-উপযুক্তক্তা নিয়েও। এতোকিছুর মধ্যেও এসব প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার-প্রচারনা, গনসংযোগ, ওঠান বৈঠক ও বিরামহীন প্রচারনায় পুরো এলাকায় বর্তমানে উৎসবের আমেজ চলছে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রতীক ও প্রার্থীর নামে কান-পাটানো মাইকিংয়ে চলছে কবি, জারি ও বয়াতী ঢংয়ে গান।

এদিকে, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের একমাত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কবির (তালা), বিএনপি সমর্থিক – আবদুল হান্নান লিটন (মাইক),বিএনপি সমর্থক জামাল উদ্দিন বাবলু (টিউবয়েল) ও এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন লিটন (পানির জাহাজ), জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল মালেক (চশমা), জাপার (এ) এর দুই প্রার্থী হলেন- সাংবাদিক মো. হারুন (বই), কৃষক মো. সাহাব উল্যা (টিয়াপাখি)। এরমধ্যে আওয়ামীলীগের গোলাম কবির, বিএনপির আবদুল হান্নান লিটন ও জামায়াতের মাওলানা আবদুল মালেকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ত্রি-মুখী লড়াই হবে। বিএনপি সমর্থিত বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন আক্তার কানন (প্রজাপতি), আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন- হাসিনা আক্তার (সেলাই মেশিন), আওয়ামীলীত সমর্থক (স্বতন্ত্র) গাজী হাসিনা বেলায়েত (কলস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।উলেখ্য- সেনবাগ পৌরসভা ও উপজেলার অপর নয়টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা- এক লক্ষ ৭৪হাজার ও ভোট কেন্দ্র সংখ্যা-৭৫টি।