খালেদা জিয়ার কাছে ৩ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন খোকা

14786_kokaবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা। একই সঙ্গে নগর কমিটির দায়িত্ব দেয়ার জন্য তিন ৩ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন। আজ দুপুরে নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। খোকা বলেন, আমি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। আমি আর এই দায়িত্ব পালন করতে চাই না। মহানগরকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমি নেত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি। আমি বলেছি, নতুন কেউ নেতৃত্বে আসুক। দলের নেতৃত্বে নতুন-তরুণদের আশা দরকার। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। খোকা বলেন, চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক পদে আমি তিন জনের নাম প্রস্তাব করেছি। তারা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু। তবে আমি যদ্দুর জানি, তাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস ও আবদুল আউয়াল মিন্টু এ পদে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এরকম একটা পর্যায় চলছে। এ ব্যাপারে নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ঢাকা মহানগর বিএনপিতে দীর্ঘ ১৭ বছর দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দলের দায়িত্ব পালনে আমার আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছি। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি নাকি সফল হয়েছি সেটা জনগণ আর দলীয় নেতাকর্মীরাই বিচার করবেন। পদত্যাগ করছেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি পদত্যাগের বিষয় নয়। আমি নেত্রীকে বলে দিয়েছি। তিনি নিশ্চয়ই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে মহানগর বিএনপির ব্যর্থতার প্রসঙ্গে খোকা বলেন, সরকারের বেপরোয়া আচরণ, দেখামাত্র গুলি, বাসা থেকে ধরে নিয়ে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের কারণে নেতাকর্মীরা ভীত-সন্ত্রস্ত্র ছিল। এ কারণে সহজে মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থাও জনগণ বিচার করবেন। দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের সমালোচনা করে খোকা বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করা উচিত। ঢাকা মহানগর বিএনপি পরিচালনায় দলের চেয়ারপারসন নতুন যে কমিটি দেবেন সে কমিটির সঙ্গে কাজ করবো। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নবীউল্লাহ নবী, আবদুল লতিফ, শামসুল হুদা, আলী আসগর, আবুল বাশারসহ মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য এসেছে। দলের মধ্যেও এ নিয়ে ব্লেমগেমের চেষ্টা চলছে। এসব কারণে এ বিষয়টি খোলাশা করা প্রয়োজন। তাই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলন সফল করতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও নির্দেশনা দেয়ার জন্য ঢাকা মহানগরে ৮জন সিনিয়র নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ ও সাদেক হোসেন খোকা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির আগেই গ্রেপ্তার হন। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যদের ভূমিকাও নিশ্চয় মূল্যায়ন যোগ্য। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সাদেক হোসেন খোকা। মহানগর বিএনপির সভাপতির পদে দায়িত্বপালন কালে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলের সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে ২০১১ সালের মে মাসে সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়ক ও আবদুস সালামকে সদস্যসচিব করে দলের মহানগর শাখার জন্য নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন খালেদা জিয়া। এরপর ছয় মাসের মধ্যে সর্বস্তরের কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। আন্দোলন চাঙ্গা করতে ব্যর্থতার অভিযোগ ও দলের ভেতরে সমালোচনার মধ্যেই ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়কের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন সাদেক হোসেন খোকা।