ফুলবাড়ীতে গফুর মার্কেটে লটারির নামে প্রতারণা বিক্ষুদ্ধ জনতার ভাংচুর লুটপাট, আহত ৪, গ্রেফতার ১

11.3-2সৌরভ কুমার ঘোষ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের গফুর মার্কেটে লটারির নামে প্রতারণার জেরে ১০ মার্চ সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে বিক্ষুদ্ধ জনতা মার্কেটটিতে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট চালিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ সময় ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৪ জন। এদের মধ্যে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামের সফিকুল ইসলাম (৩৮) ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩২) নামের ২ যুবক পায়ে বুলেটবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এদেরকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ লটারির আয়োজক গফুর মার্কেটের নয়ন ক্লথ স্টোরের মালিক মকবুল হোসেন ব্যাপারীকে (৪৭) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গফুর মার্কেটের ২৩ টি দোকান ঘরের মধ্যে ৮ টি দোকান ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিপা ফার্মেসী, সরকার গার্মেন্টস,  আল হেরা স্টেশনারী এন্ড কম্পিউটার, নীলয় ফার্মেসী ও জামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান ঘর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় গফুর মার্কেটের উপর তলার ডাচ বাংলা ব্যাংকটিরও  আংশিক ক্ষতি সাধিত হয়। ঘটনার সূত্রমতে জানা যায়, গফুর মার্কেটের নয়ন ক্লথ স্টোরের মালিক মকবুল হোসেন ব্যাপারী তার দোকানে ৪০ টাকা গজের কাপড় বিক্রির অজুহাতে গত ১ মাস যাবৎ “মুন্নি কুপন ড্র” নামে ২০ টাকা মূল্য মানের  লটারির টিকিট বিক্রি শুরু করেন। মটর সাইকেল, মনিটর, টেলিভিশন, শ্যালো মেশিন, বাই সাইকেল, গরু, ফ্যানসহ বাহারি ধরনের ৫১ টি পুরস্কারের ঘোষণা  দিয়ে তিনি উপজেলার আনাচে কানাচে ব্যাপক প্রচারণা চালান। এতে লক্ষাধিক টিকিট বিক্রি হয়। ১০ মার্চ সোমবার রাত ১১ টা ০১ মিনিটে এ লটারির  ড্র গফুর মার্কেটে  অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। টিকিট ক্রেতা হাজার হাজার মানুষ  ড্র অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লটারির ড্র না করে কালক্ষেপন করতে থাকে। এ সময় অবৈধ ভাবে এ লটারির আয়োজন করা হচ্ছে মর্মে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ লটারির আয়োজক মকবুল হোসেন ব্যাপারীকে আটক করে  থানায় নিয়ে যায়। এতে উপস্থিত জনতা লটারির নামে বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে এমন আশংকায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় তারা মার্কেটটিতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন এ অবৈধ লটারি বন্ধে প্রথমেই প্রশাসন উদ্যোগ নিলে এ সহিংস ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতো না। পাশাপাশি তারা এ ঘটনার জন্য মার্কেট মালিক হাজী আব্দুল গফুরকেও দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রশিদ জানান, থানায় আটক লটারির আয়োজক মকবুল হোসেন ব্যাপারীসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।