টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপ-নির্বাচন আ’লীগের চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহী আ’লীগ

taaingail-1মু.জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল :
টাঙ্গাইল-৮(সখীপুর-বাসাইল) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর জন্য আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। আ’লীগ আসনটি ধরে রাখতে চাইলেও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনঢ় অবস্থানে থাকায় খোদ আ’লীগেই গৃহদাহ দেখা দিয়েছে। ফলে আসনটি ধরে রাখায় শঙ্কা রয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত অনুপম শাহজাহান জয়(নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক মিঞা(হরিণ) ও অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আজাদ (আনারস), জাতীয় পার্টি (জেপি) সাদেক সিদ্দিকী(বাই-সাইকেল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লিয়াকত হোসেন(মোরগ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপ-নির্বাচনও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দল বর্জন করেছে।

জানাগেছে, স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেকোন মূল্যে এ আসনটি ধরে রাখতে চায়। তাই দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রজন্মলীগের সহ-সভাপতি প্রয়াত সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহানের ছেলে অনুপম শাজাহান জয়ের পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করতে মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা। এ আসটি ধরে রাখাই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে আ’লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিয়ে এখনও অনঢ় অবস্থানে রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এলাকার ভোটারদের পক্ষে টানতে নিজস্ব বলয়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিঞা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য স্থানীয় আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ। ইতিমধ্যে আ’লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে আব্দুল মালেক মিঞাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে বাসাইলে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।

আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক মিঞা জানান, জয়কে দিয়ে এ আসটি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। সখীপুর-বাসাইলের জনসাধারন তাকে নির্বাচনে দেখতে চায়। সেজন্য তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে  নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনগন তাকে ভোটবিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশা করেন।

অপরদিকে, হলফ নামায় স্বাক্ষর না থাকায় আ’লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদের মনোনয়ন বাতিল করে  নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। আদালতের রায়ে অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনিও কোমর বেধে নেমেছেন প্রচারণায়। স্থানীয় পর্যায়ে একজন স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে গণমানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা ঈর্ষণীয়। এলাকার বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের কর্মী-সমর্থকরা যদি কেন্দ্রমুখী হন তাহলে বিজয় তারই হবে বলে জানান তাঁর সমর্থকরা।

অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ জানান, সখীপুর-বাসাইল উপজেলার আ’লীগের তৃণমূলের সকল নেতাকর্মী ও জনগণ তার পক্ষে আছেন। মামলার রায় পক্ষে থাকায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথম বিজয় অর্জন করেছেন। মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর তাঁর কর্মী-সমর্থকরা পূর্ণোদ্যমে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহনের দিন অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদের পক্ষে ভোট বিল্পব  হবে বলে তাঁর সমর্থকরা জানান।

এদিকে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই অনুপম শাহজাহান জয় ও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা সখীপুর-বাসাইলের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, মিছিল ও সমাবেশ করছেন। তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, আসনটি শওকত মোমেন শাহজাহানের ছেলে অনুপম শাহজাহান জয়কে ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়। প্রয়াত শওকত মোমেন শাহজাহানের অসমাপ্ত কাজকে সম্পন্ন করতেই সখীপুর-বাসাইলের মানুষ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়কে নির্বাচিত করবে।

আ’লীগের প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় জানান, তাঁর বাবা ছিলেন সখীপুর-বাসাইলের মানুষের খাদেম। তিনিও বাবার মত সখীপুর-বাসাইলের মানুষের খাদেম হতে চান। বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আগামী নির্বাচনে সখীপুর-বাসাইলের মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে বলে মনে করেন তিনি।

সখীপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাসাইল উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মশিউর রহমান আপেল জানান, দলীয় প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়কে নির্বাচিত করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ আসনটি তারা ধরে রাখতে চান। দুই বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক মিঞা ও অধ্যক্ষ সাইদ আজাদের পক্ষে দলীয় কিছু লোক শুরুতে থাকলেও এখন সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে তারা অনুপম শাজাহান জয়ের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করছেন।

জাতীয়পার্টি(জেপি) প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত হোসেনও নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তারাও প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন।

তবে আ’লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আ’লীগের জন্য এ আসনটি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর ভক্ত-অনুরক্ত ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা আ’লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার পক্ষে এখনও অনঢ়। তারা কাদের সিদ্দিকীকে নাজেহাল(!)  করার প্রতিশোধ হিসেবে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আ’লীগের জন্য এ আসনটি ধরে রাখতে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৮ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুতে আসনটি শূণ্য হয়। আগামী ২৯ মার্চ এ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।