বরিশালের বাবুগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সামনে সাংবাদিককে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্রলীগ সভাপতি

borisal-1-2খান রুবেল, বরিশাল: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এক সাংবাদিককে মারধর করেছে।
সোমবার বিকেলে একটি জাতীয় দৈনিকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে স্থানীয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে মারধর করেছে। মারধরে আহত সাংবাদিককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলার বন্দর বাজারে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান মিলনের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা মারধর করে বলে জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ থানার ওসি শাহে আলম।
ওসি বলেন, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী খালেদ হোসেন স্বপন ও তার লোকজন।
বিকেলে বাবুগঞ্জ বন্দর বাজারে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী গনসংযোগকালে সাইফুলকে পেয়ে প্রকাশিত সংবাদের কৈফিয়ত চায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান মিলন।
এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে প্রার্থীর উপস্থিতিতে মিলন সহ অন্যান্যরা সাইফুলকে মারধর করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে সাংবাদিক সাইফুলকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
বিগত দিনে সভাপতি মিলন তার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র বেচাকেনার সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষমতার প্রথমদিকে এক সাংবাদিককে মারধর করে। এই সময় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় সে।
বাবুগঞ্জে সন্ত্রাসের জনপথের সৃষ্টিকারী মিলন ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এক সময়ের সর্বহারা কামরুল গ্রুপের সন্ত্রাসী নেতাদের চা-সিগারেট ও পানি এগিয়ে দেয়াসহ নানা ফুটফরমায়েশ খাটা মিলন নিজেই বাহিনী গড়ে তোলেন।
গত প্রায় ৬ বছরের দল ক্ষমতায় থাকার প্রভাবে মিলন ৫ তলা বাড়ী করেছে। পারিবারিক কোন সম্পদ দিয়ে ভবন করা সম্ভব নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ছিচকে সন্ত্রাসী থেকে ছাত্রলীগ নেতা এরপর মুলদলে প্রবেশ করলেও বিগত ৫ বছরে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুর সাথে থাকতো। তার তোষামোদ করে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে টিআর, কাবিখা, কর্মসৃজন কর্মসুচীর বরাদ্ধ হওয়া টাকা পয়সা লুটপাট করেছেন।