মৌলভীবাজার ও রাজনগরে তিন দলের ভোট যুদ্ধ শুরু

moulovibazar-0এমএ ওয়াদুদ,মৌলভীবাজার :
উপজেলা নির্বাচনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগরের একাধিক প্রার্থী নিয়ে স্বস্থিতে নেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত। জেলা জামায়াতের আমীর রাজনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির সাথে জামায়াতের টানাপড়েন চলছে। অপর দিকে মৌলভীবাজার জেলার সবক’টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারলেও রাজনগর এবং সদর উপজেলায় এর ব্যতিক্রম ঘটে। বিশেষ করে মহসীন আলী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হওয়ার পর দলের গ্র“পিং প্রকাশ হয়ে যায়। যে কারণে চেয়ারম্যান পদে এ দুই উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের দুই ধারার দুইজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদর উপজেলা প্রার্থী তৃণমূলের মনোনয়নের আগেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিভিন্ন সভায় নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় তৃণমূলে বিতর্ক শুরু হয়। এই বিতর্কের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। যদিও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূলের নেতাদের ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।  প্রার্থী মনোনয়ন কার্যক্রম হয় এবং দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মুহিবুর রহমান তরফদারের নাম প্রকাশ করা হয়। ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে মাঠে নেমে  মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন। এখন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীই মাঠে প্রচারণা চালাচেছন সমান তালে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হলেও কেউ প্রত্যাহার করেনি। অপর দিকে রাজনগর উপজেলায়ও একইভাবে আওয়ামী লীগের দুইজন প্রার্থী মাঠে আছেন। সেখানে তৃণমূলের বৈঠক হয়েছে দুই দিন। প্রথম দিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বৈঠক আহ্বান করেন এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক আছকির খানের নাম ঘোষণা করা হয়। পরের দিন সভাপতি মিছবাহুদ্দোজা ভেলাইর আহ্বানে তৃণমূল সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ। এ সভায় তৃণমূল নেতাদের মতামতে চেয়ারম্যান পদে দলের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান মিছবাহুদ্দোজা ভেলাইর নাম ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত দুইজনই মাঠে নিজেদের  দলের একক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচেছন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিএনপির চেয়ারম্যান পদে আছেন দুইজন। একজন জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমানের বলয়ের সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির। অপরজন সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানী বলয়ের মিজানুর রহমান (ভিপি মিজান)। দুইজনই আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের ১৯ দলের প্রার্থী হিসেবে চালাচেছন প্রচারণা। মিজানুর রহমানের পক্ষে ৬ মার্চ বেগম খালেদা রব্বানী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির  মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে ৫ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে ১৯ দলের একক প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দিকে রাজনগরের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে ১৯ দলের প্রধান শরিক দল জামায়াতের সাথে নাসের রহমান সমর্থিত বিএনপির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। জামায়াতের দাবি ছিল রাজনগরের ১৯ দলের একক প্রার্থী থাকবেন জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুল মান্নান। তাদের যুক্তি ছিল গত উপজেলা নির্বাচনে আব্দুল মান্নান চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তা ছাড়া তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা আছে। এ লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু  নাসের রহমান রাজনগর উপজেলার বিএনপির সভাপতি জামি আহমদকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা দেন। তারও উপজেলাব্যাপী পরিচিতি আছে । আর এই প্রার্থী ঘোষণা নিয়েই নাসের রহমানের সাথে দূরত্ব বাড়ে জামায়াতের। এ দিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ দূরত্বের সূত্র ধরে জামায়াত মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মিজানকে সমর্থন দিয়েছে। অন্য দিকে রাজনগরে বিএনপির খালেদা রব্বানী বলয়ের নেতাকর্মীরা সমর্থন করেছেন জামায়াত নেতা আব্দুল মান্নানকে। এ নিয়ে একাদিক বৈঠকও হয়েছে। অন্য দিকে পূর্ব থেকেই বিরোধ আছে মৌলভীবাজারে ১৯ দলের আরেক শরিক খেলাফতে মজলিসের সাথে নাসের রহমানের। রাজনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল। এ দিকে রাজনগর উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে জেলা জামায়াত গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচেছ। জেলা জামায়াতের বিভিন্ন সূত্রের দাবি রাজনগরে তাদের প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন সারা জেলার কর্মীরা। এটিকে জেলায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তাই সবার দৃষ্টি এখন এ দুই উপজেলা নির্বাচনের দিকে। আগামী ২৩ ও ৩১ মার্চ শেষ হবে এ দুই উপজেলার নির্বাচন।