জয়পুরহাটে আলামত উদ্ধারের পরও আটকের ৫ঘন্টা পর থানা থেকে ৩জনের মুক্তি

joypurhatএস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাটঃ
ছাগল জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়ারার অভিযোগে রবিবার শিক্ষকসহ দুই গ্রামবাসীকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। সাথে আলামত হিসেবে ছাগলের চামড়া ও আংশিক মাংসও উদ্ধার করা হয়। পরে বাদি মামলা করতে রাজি নয় জানিয়ে আটকের ৫ ঘন্টা পর তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ আটককৃতদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে। রবিবার রাতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, ক্ষেতলালের আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জোবেদা বেগম ছাত্রদের মাধ্যমে স্কুল মাঠ থেকে আলমপুর গ্রামের অতুল চন্দ্রের ছাগল ধরে বাড়িতে নিয়ে জবাই করে। জানাজানির পর স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল রবিবার গ্রামবাসীদের নিয়ে সালিস বসান এবং জবাই করা ছাগলের চামড়া ও আংশিক মাংস শিক্ষকের হেফাজত থেকে উদ্ধার করেন। সেখানে শিক্ষকের নয় হাজার টাকা জড়িমানা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক সালিস না মানলে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। পরে থানা থেকে এস আই আশিক ও এস আই রফিক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বাদির লিখিত অভিযোগসহ শিক্ষক জোবেদা বেগম ও ঘটনার সাথে জড়িত গ্রামের বেলাল শাহ ও মিজানুর রহমানকে আটক করে বিকেল তিনটার দিকে থানায় নেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য মামলা না নিয়ে আসামীদের ছেড়ে নিতে তদবির শুরু করেন আসামী পক্ষের লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলা নেয়ার কথা জানান ক্ষেতলাল থানার ওসি ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আসামী পক্ষের সাথে মোটা টাকায় রফা করে রাত ৮টার দিকে মামলা না নিয়ে আসামীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আলমপুর গ্রামের আইনজীবি মাহফুজার রহমান হেলাল অভিযোগ করেন,‘আলামতসহ শিক্ষক জোবেদা বেগম ও দু’জন গ্রামবাসীকে পুলিশ আটক করে থানায় নেয়ার পর টাকার বিনিময়ে আটকের ৫ ঘন্টা পর মামলা না নিয়ে থানা থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘মানবিক কারণে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার জন্য ওসিকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। ওসি মামলা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দিলেও মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার কথা জেনে কষ্ট পেয়েছি’।

ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চঞ্চল বলেন,‘থানায় শিক্ষক আটকের কথা শুনে শিক্ষক নেতা হিসেবে তাঁকে ছেড়ে নেয়ার চেষ্টা করি। আটক শিক্ষকের স্বজনদের সাথে আলাপ করে নিজে ওসির সাথে কথাও বলি। কিন্তু ওসি সাহেব নানা অজুহাত দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দিলেও এরজন্য নিজের হাতেই ওসিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক’।

তবে ওসি ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘শিক্ষকসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে ছাগলের মালিক অতুল চন্দ্র মামলা করতে রাজি না হওয়ায় মামলা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে’।