টাঙ্গাইলে পুলিশের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Tangail Human Chain.-sadot collige-10.03.2014টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের উপ-শহর এলেঙ্গায় মোটর সাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে করটিয়া সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সালমা হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

সোমবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আহাদ, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শামীম আল মামুন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল আলীম, যুগ্ম-আহ্বায়ক রানা তালুকদার, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি শাহাদত হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা মেধাবী ছাত্রী সালমার কথিত প্রেমিক সহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে, সালমার মৃতদেহ ময়না তদন্ত শেষে রোববার বিকালে তার বাড়ি কালিহাতী উপজেলার মমিননগর গ্রামে নেয়া হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতাড়না হয়। এলাকায় শোকের মাতম দেখা দেয়। স্থানীয় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সালমাকে একনজর দেখার জন্য ভির করে। পরে নামাজে জানাযা শেষে তাকে মমিননগর সামাজিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রকাশ, গত ৮ মার্চ(শনিবার) দুপুরে টাঙ্গাইলের উপ-শহর এলেঙ্গায় হেলমেটপড়া মোটরসাইকেল চালক আরোহী সালমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে টাঙ্গাইলগামী একটি ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি শক্তিশালী চক্র হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনেও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মোছা. সালমা বেগমের সাথে টাঙ্গাইল পুলিশ বিভাগে কর্মরত এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সূত্র ধরে এসআই উজ্জল কান্তি সরকার ওই ছাত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। পুলিশের লোক হওয়ার সুবাদে ওই ছাত্রীকে নিয়ে সে যমুনা রিসোর্ট লি., এলেঙ্গা রিসোর্ট লি. সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত যাপন করেছেন। এ বিষয়টি বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানা পুলিশের সদস্যরা প্রায় সকলেই অবগত। এক পর্যায়ে সালমা গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ধনবাড়ি থানায় কর্মরত এসআই উজ্জল দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই জের ধরে গত শনিবার(৮ মার্চ) বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের এলেঙ্গায় হেলমেটপড়া এক অজ্ঞাত মোটরসাইকেল চালক ধাক্কা দিয়ে আরোহী সালমা(২৪)কে ট্রাকের নিচে ফেলে দেয়। ট্রাকের চাপায় সালমার শরীর জড় মাংসপিন্ডে পরিনত হয়। এ সময় সালমার সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল চালক পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।

রোববার সকালে এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের দেয়া মোবাইল নাম্বারে পুলিশ ফোন করে জানতে পারে সালমার বাড়ি কালিহাতীর মমিন নগর গ্রামে। পরে তার বাবা আবু সাইদ এসে ছিন্নভিন্ন জামাকাপড় দেখে লাশ সনাক্ত করেন। মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে ছাত্রীকে দুর্ঘটনার মাধ্যমে হত্যা করার ঘটনাটি টাঙ্গাইল, উপ-শহর এলেঙ্গা ও কালিহাতী উপজেলায় চাউর হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল পুলিশ বিভাগের এসআই উজ্জল কান্তি সরকার জেলার কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব, ভূঞাপুর সর্বশেষ গোপালপুর থানায় কর্মরতকালে মাদকবহন ও সেবন, মাদক দিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানি, নারী কেলেঙ্কারি, উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর, মুক্তিযোদ্ধা সহ সাধারন মানুষকে অহেতুক হয়রানি এবং নানা অযুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রত্যেক থানা থেকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়।

সোমবার দুপুর সোয়া দুইটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সালমার বাবা ও আতœীয়রা বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানায় মামলা করতে উপস্থিত হলেও পুলিশ এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের নামোল্লেখ করে মামলা নিচ্ছেনা এবং কারো নামোল্লেখ না করে মামলা দায়ের করার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।