‘গোপালিকে ক্রেন দিয়ে টেনে তুলতে হবে’ : খালেদা জিয়া

keladaবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তারা বলেন- গোপালিরা নাকি কপালি হয়। হায়রে কপালি। আওয়ামী লীগই নির্বাচনের ট্রেন লাইন থেকে পড়ে গেছে। তাই গোপালিকে এখন ক্রেন দিয়ে টেনে তুলতে হবে। রোববার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে। বিচার বিভাগের কোন স্বাধীনতা নেই। এখানে সব চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রশাসন বলছে কিছু নেই। সেখানেও দলীয়করণ করা হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার বিরোধী দলের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। তবে যতোই জুলুম চালাবে মানুষ ততোই বিপক্ষে যাবে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার বলেÑ আমরা ট্রেন মিস করেছি। আমরা তো বলি- সেদিন কোন ভোটই হয়নি। আমাদের আহ্বানে জনগণ ভোটকেন্দ্রেই যায়নি। জনগণ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এ সময় তিনি একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ছবি দেখিয়ে বলেন, সেদিন জনগন নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। ভোট কেন্দ্রে মানুষের বদলে গেছে একটি কুকুর। সরকারের উচিত সে কুকুরকে খুঁজে বের করে পুরস্কার দেয়া। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তাই এ সরকার অবৈধ। এ সংসদও অবৈধ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই একটি জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল না। যে নির্বাচনে ৫৭টি কেন্দ্রে কোন ভোটই পড়েনি। বিদেশীরাও ঘুরে ঘুরে দেখেছে দেশে কোথাও নির্বাচন হয়নি। তাহলে তারা কীভাবে নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে? প্রতিদ্বন্দ্বীই পেল না নির্বাচন কোথায় হলো? ভোটকেন্দ্রে কোন ভোট পড়েনি। ১৯-দলীয় জোটের মানুষ ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেই ভোটকেন্দ্রে মানুষ যাননি। এটা হলো নীরব প্রত্যাখ্যান। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা নির্বাচনে না গিয়ে সঠিক কাজটি করেছি। আওয়ামী লীগের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না তা দেশবাসী ৫ই জানুয়ারি দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা নির্বাচনের ট্রেন বিএনপি মিস করেনি। আওয়ামী লীগ ভুল ট্রেনে উঠেছে। তাই ট্রেন লাইন থেকে পড়ে গেছে। এখন সেই ট্রেনকে ক্রেন দিয়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, জোর করে ক্ষমতায় বসে তারা সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিচ্ছে আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে দিচ্ছে। দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। সারা পৃথিবী একথা বলছে। বহু মানুষ গুম-খুন হয়েছে। সন্ত্রাসের কারণে মানুষ ঠিকতে পারছে না। কোন সন্ত্রাসীকে ধরা হচ্ছে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। সরকার ৩০ জন ফাঁসির আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে।  খালেদা জিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কেউ ভোট দিতে যাচ্ছে না। এজন্য কেন্দ্র দখল করে পোলিং এজেন্ট, পোলিং অফিসার মিলে সিল মারছে। সিল মেরে ভোটের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এই হল নির্বাচন। এটিকে কি কোন নির্বাচন বলা যায়? বিদ্যুতের দাম না বাড়াতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কার স্বার্থে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে? দলীয় লোকজনকে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট দেয়া হয়েছে, তাদের ভর্তুকি দেয়ার জন্য। খালেদা জিয়া বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন- তিস্তার পানি দিতে পারবে না। তিস্তা চুক্তি হবে না। তিনি বলেন, দেশে সীমান্ত হত্যা অবাধে চলছে। কিন্তু সরকার কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। জনবিচ্ছিন্ন দুর্বল সরকার প্রতিবাদ করবেই বা কি করে? তিনি বলেন, চুক্তি করে করিডোর দেয়া হচ্ছে কিন্তু ভারত থেকে আমরা কি পেয়েছি? আওয়ামী লীগকে সমর্থণ ছাড়া ভারত আমাদের আর কিছুই দেয়নি। তিনি বলেন, তিস্তার পানি পাবো না, সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না আমরা কিছুই পাবো না। পানি না পেলে করিডোর চুক্তি হতে পারে না।