ঝিনাইগাতীর ছোট গজনীর আদিবাসী পল্লীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

Water-1মুহাম্মদ আবু হলাল, ঝিনাইগাতী  : পানির অপর নাম জীবন, আবার তা হয় যদি বিশুদ্ধ। কিন্ত সেই বিশুদ্ধ পানির সংকট যেখানে  দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, সেটাকে কি বলা যায় ? এমনই এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে Ñ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ছোট গজনী গ্রামে। টিলাপাড়া, নামাপাড়া, কাংশাপাড়া ও ছোট গজনী এই ৪টি পাড়া নিয়ে ছোট গজনী গ্রামটি গঠিত । এই গ্রামে ৭২টি পরিবারে প্রায় ৪ শতাধিক লোকের বসবাস। উপজেলার সদরের আশ পাশ এলাকাসহ উত্তরাঞ্চলে শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট থাকে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত। এলাকা গুলোর মধ্যে গজনী অবকাশের সন্নিকটের ছোট গজনী গ্রামে হাহাকার পড়ে গেছে খাবার পানির জন্য। আদিবাসী পল্লীর লোকজন পুকুর, খাল-বিল, নদী-নালা, ও ঝর্নার পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আদিবাসী  অধ্যুষিত এ উপজেলার পাহাড়ী গ্রামগুলো হচ্ছে- তাওয়াকুচা, গুরুচরণ দুধনই, পানবর, বাকাকুড়া, গান্ধিগাও, হালচাটি, নওকুচি , গজনী ও ছোট গজনী। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, আদিবাসী পল্লীর পাহাড়ী গ্রামগুলোতে মাটির নিচে প্রচুর পরিমানের পাথর থাকার কারণে নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয়না। আবার কোন কোন স্থানে সম্ভব হলেও জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে  শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই ভূ-গর্ভস্থ   পানির স্তর ১শ থেকে দেড়শ ফিট নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতে পানি উঠে না। অকেজো হয়ে পড়ে নলকূপগুলো। আদিবাসী পল্লীর পাহাড়ী গ্রামবাসীদের পানির সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদক্ষেপ নিয়ে বেশ কিছু রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করে। কিন্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা আজ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সংস্কারের কোন উদ্যেগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে পাহাড়ী গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে হাহাকার পড়ে যায়। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দুরে বাকাকুড়া ও গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গিয়ে  ছোট গজনীর আদিবাসীদের প্রতি দিনের জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। এ গ্রামের পাকা সড়কের পার্শ্বে অতি কষ্টে মাটি গর্ত করে একটি কূপের সৃষ্টি করে সেখান থেকেই খাবার পানির চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন। তবে এ কূপের পানি বড় জোড় আর ১৫ দিন উত্তোলন করা যাবে। আদিবাসী অধ্যুষিত এ গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়ে কথা বলেন, আদিবাসী আলেক জান্ডার মারাক, লিপি মারাক, কৃষ্টিনা মানখিন ও ছোট গজনী গ্রামের আদিবাসীদের নেতা বা মাতব্বর আব্রাহাম সাংমা । তারা সরকারের পাশাপাশি  প্রয়োজনে দাতা দেশগুলো এর স্থায়ী সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন। এ ব্যাপরে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ছোট গজনী এলাকায় মাটির নিচে পাথর থাকার কারণে সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তার পরেও ওই গ্রামের পানির সংকট সমাধানের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি জানান।