টাঙ্গাইলে পুলিশের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী খুন! প্রশাসনে তোলপাড়

taaingail-1মু.জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল :
টাঙ্গাইলের উপ-শহর এলেঙ্গায় পুলিশের এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের হাতে করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রী সালমা খুন(!) হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি শক্তিশালী চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নিহত সালমা কালিহাতী উপজেলার মমিননগর গ্রামের আবু সাইদের মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মোছা. সালমা বেগমের সাথে টাঙ্গাইল পুলিশ বিভাগে কর্মরত এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সূত্র ধরে এসআই উজ্জল কান্তি সরকার ওই ছাত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। পুলিশের লোক হওয়ার সুবাদে ওই ছাত্রীকে নিয়ে সে যমুনা রিসোর্ট লি., এলেঙ্গা রিসোর্ট লি. সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত যাপন করেছেন। এ বিষয়টি বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানা পুলিশের সদস্যরা প্রায় সকলেই অবগত। এক পর্যায়ে সালমা গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ধনবাড়ি থানায় কর্মরত এসআই উজ্জল দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই জের ধরে গত শনিবার(৮ মার্চ) বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের এলেঙ্গায় মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে সালমা(২৪)কে ট্রাকের নিচে ফেলে দেয়। ট্রাকের চাপায় সালমার শরীর জড় মাংসপিন্ডে পরিনত হয়। এ সময় সালমার সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার(৮ মার্চ) দুপুর দেড় টার দিকে এলেঙ্গায় হেলমেট পড়া মোটরসাইকেল চালক ওই গাড়ির মেয়ে আরোহীকে টাঙ্গাইলগামী একটি চলন্ত ট্রাকের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ট্রাকের চাপায় মেয়েটি মারা যায়। এ সময় মেয়েটির ভ্যানিটি ব্যাগ রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে মোটর সাইকেল চালক দ্রুত টাঙ্গাইলের দিকে চলে যায়।

রোববার সকালে এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের দেয়া মোবাইল নাম্বারে পুলিশ ফোন করে জানতে পারে সালমার বাড়ি কালিহাতীর মমিন নগর গ্রামে। পরে তার বাবা আবু সাইদ এসে ছিন্নভিন্ন জামাকাপড় দেখে লাশ সনাক্ত করেন। মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে ছাত্রীকে দুর্ঘটনার মাধ্যমে হত্যা করার ঘটনাটি টাঙ্গাইল, উপ-শহর এলেঙ্গা ও কালিহাতী উপজেলায় চাউর হয়ে যায়। বিষয়টি টাঙ্গাইল পুলিশ বিভাগে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম ময়না তদন্ত করে জানান, সালমার মৃত্যুর কারণ সাধারনভাবে গাড়ি চাপা। তার গর্ভবতী হওয়া বা দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের সকল আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। সে সম্পর্কে কোন কিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা।

সালমার বাবা আবু সাইদ জানান, তার মেয়ে অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী। তাকে যে বা যারা হত্যা করেছে তিনি তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সদ্য ধনবাড়ি থানায় যোগদান করা এসআই উজ্জল কান্তি সরকার জানান, তিনি গোপালপুর থানায়ই রয়েছেন। তিনি ভিকটিমের বাবার মোবাইল নাম্বরটি কালিহাতী থানার কনস্টেবল(ওসির গাড়ি চালক) ওয়ালিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার এসআই আনিছুর রহমানকে দিয়েছেন। তিনি সালমা বা তার পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

কালিহাতী থানার কনস্টেবল(ওসির গাড়ি চালক) ওয়ালিদ জানান, শনিবার(৮ মার্চ) বা রোববার(৯ মার্চ) এসআই উজ্জল কান্তি সরকারের সাথে কোন কথাই হয়নি। সাংবাদিকদের সাথে এসআই উজ্জল সত্য কথা বলেন নি।

বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার এসআই আনিছুর রহমান জানান, ভিকটিমের বাবার মোবাইল নাম্বারটি তাকে জনৈক র‌্যাব সদস্য দিয়েছেন। সালমার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। উজ্জল কান্তি সরকারের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গোপালপুর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ জানান, উজ্জল কান্তি সরকার র‌্যাবে বদলী হয়েছেন। গোপালপুর থানায় তার কোন ডিউটি নেই। শনিবার(৮ মার্চ) তিনি চলে গেছেন। তার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল পুলিশ বিভাগের এসআই উজ্জল কান্তি সরকার জেলার কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব, ভূঞাপুর সর্বশেষ গোপালপুর থানায় কর্মরতকালে মাদকবহন ও সেবন, মাদক দিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানি, নারী কেলেঙ্কারি, উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর, মুক্তিযোদ্ধা সহ সাধারন মানুষকে অহেতুক হয়রানি এবং নানা অযুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রত্যেক থানা থেকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়।