পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি : চাকুরীর দাবিতে অবরোধ

dinajpur-14-150x150বদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর ) প্রতিনিধিঃ
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয়দের চাকুরী প্রদান, খনির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের  উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও খনি দূর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়া শ্রমিকদের পুণর্বাসনের দাবিতে আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি অবরোধ করে রাখে খনি এলাকার কয়েকশ’ গ্রামবাসী। পরে পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন- হরিরামপুর ইউনিয়ন জনকল্যাণ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, খনি বাস্তবায়নকারী উত্তর কোরিয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাম-নাম ২০০৭ সালের ২৫ মে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি হতে উন্নতমানের গ্রানাইড পাথর উত্তোলন শুরু করে। এতোদিন শ্রমিক সরবরাকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৩০৮ শ্রমিক পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু-স্টার সার্ভিসেস’ এর সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এসময় পর্যন্ত এক শিফটে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেঃটন পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হতো।  তিন শিফটের স্থলে মাত্র এক শিফটে পাথর উত্তোলনের ফলে খনিটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়।  খনি থেকে ৩ শিফটে পাথর উত্তোলন করে এটিকে লাভজনক পর্যায়ে উত্তরণের জন্য সরকার  গত বছর ২ সেপ্টেম্বর বেলারুশের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সঙ্গে খনির ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন,রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত ১হাজার ৪শ’ কোটি টাকা মূল্যের ৬ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। খনির মহা-ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মীর আব্দুল হান্নান জানান,  গত ২০ ফেব্র“য়ারী জেটিসির কাছে খনির দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় এবং ২৪ ফেব্র“য়ারী খনি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে জিটিসি। এর আগে তারা নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। ইতোমধ্যে দু’দফায় তারা ৩৫৮ জন শ্রমিক নিয়াগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ শ্রমিক নিয়োগদান করা হবে।  শ্রমিক নিয়োগ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে খনি হতে ৩ শিফটে পূর্ণমাত্রায় পাথর উত্তোলন শুরু করা হবে। বর্তমানে পরীক্ষমূলকভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫শ’ থেকে ৭শ’ মেঃটন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের আন্দোলন  প্রসঙ্গে খনি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত জিটিসির মহা-ব্যবস্থাপক জাবেদ সিদ্দিকী বলেন, সকালের দিকে কিছু সংখ্যক লোক খনি অবরোধের চেষ্টা করে। তবে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর তারা অবরোধ তুলে নেয়।
আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের সংগঠন হরিরামপুর ইউনিয়ন জনকল্যাণ কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মাসুদার রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেনুল ইসলাম ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা খনি এলাকায় এসে এলাকাবাসীর দাবিগুলো স্মারকলিপি আকারে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুররহমান এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিবের নিকট পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে আমরা এক সপ্তাহের জন্য অবরোধ স্থগিত ঘোষণা করি।