পঞ্চগড়ে আবাদী জমিতে কারখানা স্থাপন ও পাথর উত্তোলন : রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার

0101010ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে আবাদি জমিতে বহুজাতিক কোম্পানি কারখানা স্থাপন ও সমতল ভূমি খনন করে পাথর উত্তোলন করা হয় ।
পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতে অপরিকল্পিত ভাবে খনন করে পাথর উত্তোলন করায় দিনদিন আবাদি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। জমি যার পাথর তার এ নীতিতে জেলার পাথর উত্তোলন করায় সরকার এ খাত থেকে কোন রাজস্বও পাচ্ছে না। এ ছাড়া মহাসড়কের আশপাশে বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি কারখানা স্থাপসের জন্য জমি কিনে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখায় শতাধিক একর জমি অনাবাদি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলার কৃষিজমি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে। আবার মাটির অনেক গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, পঞ্চগড় জেলায় আবাদি জমির পরিমান ১ লাখ ১১ হাজার ৩’শ ৩৭ হেক্টর। পতিত জমির পরিমাণ ৮’শ হেক্টর এবং পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে প্রায় ২’শ হেক্টর জমিতে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে পাথর উত্তোলনের কোন নীতিমালা না থাকায় এক শ্রেণির পাথর ব্যবসায়ী পাথর উত্তোলনের জন্য জমির মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েসমতল ভূমি হতে পাথর তোলে। এ পাথর তুলতে সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০-৪০ ফুট গর্ত করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে জমি তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে অনাবাদি জমিতে রুপান্তরিত হচ্ছে। সাময়িক লাভের আশায় কৃষকরা তাদের আবাদি জমি থেকে পাথর উত্তোলন করায় সৃষ্ট গভীর গর্ত ভরাট করতে ব্যয় বেশি হওয়ায় অধিকাংশ জমির মালিক গর্ত ভরাট না করে ফেলে রেখেছেন। অনেকে নামমাত্র জমির উপরের অংশ ভরাট করলেও বেলে মাটির পরিমান বেশি হওয়ায় সেই জমি চাষ অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার কৃষক মজিবর রহমান জানান, ১ বিঘা জমি চাষ করে ধান পাওয়া যায় ২০ মণ। ২০ মণ ধানের মূল্য ১৬ হাজার টাকা। আর ১ বিঘা জমি থেকে পাথর উত্তোলন করলে পাওয়া যায়  প্রায় ৪/৭ লাখ টাকা। যাতে সহজে লাভবান হওয়া যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম জানান, কৃষি জমিতে পাথর উত্তোলন করায় জেলায় কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। কৃষকদের এ কিষয় থেকে বিরত রাখতে আমাদের কোন করণীয় নাই।