আক্কেলপুরে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ !

joypurhatএস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাটঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাকুরি থেকে  স্বেচ্ছায় অব্যহতি, প্রশিক্ষণে যাওয়া শিক্ষক ও এক শিক্ষককে একাধিক কেন্দ্রে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়ায় অঘোষিত সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর মোহাম্মদ অলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজ এর স্বাক্ষরিত ভোট কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব বন্টনের তালিকা পাওয়ার পরেই এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলা পরিষদের ভোট কেন্দ্রের দ্বায়িত্ব বন্টনের তালিকায় দেখা গেছে, পূর্বমাতাপুর ভোটকেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লক্ষিভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলীমকে। পূর্ণঘরদিঘী ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টের দ্বায়িত্ব পেয়েছেন দিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ফাতেমাত্তুজ জহুরা, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকাকে  রায়কালী  ও ভিকনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা নাজমা পারভিনকে পুন্ডরিয়া ও গুডুম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আক্কেলপুর পৌর শ্রীকৃষ্টপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুশান্ত কুমার ঘোষকে কালঞ্জ ও পুরঘরদীঘি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, কয়া শোবলা  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আক্কেলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পোলিং এজেন্ট  ও রোয়াইড়  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাদিরা বেগম  মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা সত্বেও  হাস্তাবন্তপুর কেন্দ্রে  দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ন হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বাদ রেখে সহকারি রিটানিং কর্মকতা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মো. শাহনেওয়াজ তাঁর আস্থাভাজন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীকে নির্বাচনের দায়িত্ব বন্টনসহ যাবতীয় দায়িত্ব দিয়ে কাজ করিয়েছেন। একারণে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে চাকুরি অব্যহতি নেওয়া, প্রশিক্ষণে যাওয়া শিক্ষকদের নাম তালিকায় ও এক শিক্ষককে একাধিক স্থানে দায়িত্ব দিয়েছেন এছাড়া সিনিয়র ব্যক্তিদের বাদ রেখে নবীনদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা জানান, উপজেলা রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার যেহেতু সৎ  এবং ঘুষ গ্রহন করেন না সেহেতু একাডিমক সুপার ভাইজার যাদের কাছ থেকে  ঘুষ নিয়েছেন শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে তাদেরকেই  ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব বন্টনে  একাধিক স্থান রেখে পরবর্তীতে  চাহিদা স্থানে দায়িত্ব দিয়ে ভূল সংশোধন করবেন।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রমাণিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি শুধু নামে নির্বাচন কর্মকর্তা কিন্ত একাডেমিক সুপারভাইজার নির্বাচনী সকল কাজ করেছেন।

উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর মোহাম্মদ আলীর অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে  তার ব্যবহৃত ০১৭১৩৭৯৯৬৫৭ নম্বর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সময় সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই ফোনটি  বন্ধ রাখা হয়।

উপজেলা সহকারি রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এ ব্যাপারে  অভিযুক্ত  ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার জাকির হোসেন বলেন, আমি বিয়টি জানার পর ওই তিন কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠিয়েছি। তারা আসলে বিস্তারিত জানার পর ব্যবস্থা নেব।