রূপগঞ্জে কল-কারখানার বর্জে পরিবেশ বিপর্যয় ১৫ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকিতে

PIC INDUSTRY-3নিজাম উদ্দিন আহমেদ,রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ রূপগঞ্জে কল-কারখানার বর্জের পানি আটকে জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ বিপর্যয় ও পানিবন্ধীসহ স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছে ১৫হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ধানি জমি হচ্ছে বিনষ্ট, ঘরবাড়িতে মানুষ ভুগছে নানা রোগ বালাইয়ে, পুকুর বর্জের পঁচা পানিতে মরছে মাছ, নষ্ট হচ্ছে ফসল, পানি বন্ধী হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ায় ১৫হাজার মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পদ্মা ব্লিচিং এন্ড ডাইং, এন জেড টেক্সটাইল মিল্স ও ইউনিয়ন ষ্টিল টিউবের (বিষাক্ত এসিড পানি) পানি নিষ্কাশনের একটি মাত্র ক্যানেল। এখানে তিনটি বড় ধরনের কারখানা রয়েছে। আর এ কল-কারখানার বর্জ বেরিয়ে পড়ছে এ ক্যানেলে। তবে পদ্মা ব্লিচিং এন্ড ডাইং মিলের যত পলিথিন ও ময়লাসহ বর্জ ক্যানেলে ফেলছে। তারা জানান পদ্মায় ইটিপির ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুত খরচের ভয়ে ইটিপি বন্ধ রাখে। ইটিপি ব্যবহার না করায় কারখানার বর্জের পানি আটকে পঁচা র্দগন্ধ এলাকায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পঁচা পানিতে মরছে মাছ, নষ্ট হচ্ছে ফসল, পানি বন্ধী হওয়ায় মানুষ নানা চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী পড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এমনভাবেই অভিযোগ করেন বলাইখা এলাকার মোঃ শরীফ, আমিনুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন। তারা আরো জানান আটকে পড়া পানি আমরা শত চেষ্টা করেও নিষ্কাশন করতে পারিনি। নাম না বলার শর্তে জনৈক ব্যক্তি বলেন ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাজী জামাল উদ্দিন এ কল-কারখানার মালিকদের সাথে ব্যবসা করেন। এলাকাবাসীর পক্ষে কথা বলতে গেলে খান সাব তাদের মোটা অংকের টাকা ধরিয়ে দেন। তাই তারা চুপ হয়ে যায়। আর সমস্যা সমস্যাই থেকে যায়। এলাকাবাসীর পক্ষে থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ও সাবকে এনেও পানি নিষ্কাশনের দাবী করা হয়। এসও সাব আজ পর্যন্ত কোন ধরনের উদ্বেগ নেয়নি। তারা বলেন এসও সাবকে তারা ম্যানেজ করেছে। এ সমস্যা নিয়ে মেসাস পদ্মা ব্লিচিং এন্ড ডাইং এর সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান মিল্স মালিক নুরুজ্জামান খান

ইউপি সদস্যকে ম্যানেজ করে এলাকায় পানি বন্ধী করে পরিবেশ নষ্ট করছে। যাতে করে বসবাসরত এলাকাবাসী কম দামে জায়গাজমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়। মিল মালিকরা মেম্বারের সহযোগীতা নিয়ে এ পদ বেছে নিয়েছে। মেসার্স এন জেড টেক্সটাইল মিল্স-এর মালিক নুরুজ্জামান খানকে মোবাইলে করে পাওয়া যায়নি। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত মং (উপজাতী) বলেন আমাদের মিলের পানি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে না। নুরুজ্জামান খান এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় এর্র প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। মিল মালিকরা শুধু ক্ষতি করেই যাচ্ছে। পদ্মার মালিকের সাথে কথা বলা যায়নি। উল্লেখ্য পদ্মা ব্লিচিং এন্ড ডাইং মিলে ইটিপি বসানো থাকলেও ব্যবহার করে না। পদ্মা মিলের বর্জ ও পলিথিন ফেলায় এ ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে বলাইখা এলাকার শরীফ, আমিনুল ও সাহাবুদ্দিন  বলেন, এলাকাবাসীকে সংগে নিয়ে কয়েকবার নিজ উদ্বোগে পানি নিষ্কাশন করেছি। তাতেও কোন লাভ হয়নি। দু’এক দিনের মধ্যেই আবার ক্যানেল ভরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উদ্ধেগ না নিলে এর প্রতিকার হবে না। এলাকায় এক সময় আটকে পড়া পানি ক্যানেলটি দিয়েই স্বাভাবিক ভাবে বের হতে পারতো। এখন বৃষ্টির পানির সাথে কল-কারখানার রংয়ের পানি, পলিথিনসহ কারখানারগুলোর বর্জের ময়লা একত্রে মিলে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। গোলাকান্দাইল এলাকার রমজান আলী জানান স্থানীয় প্রশাসন টাকা খেয়ে সব কিছু করে থাকে। তাই এসমস্যার কোন সমাধান হয় না। পরিষদের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান আমার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। আমি ওয়ার্ড মেম্বার হওয়ায় এলাকাবাসীর র্দুদশার কথা চিন্তা করে ক্যানেলটি পরিষ্কার করার উদ্গেগ নিয়েছিলাম। আগে কোনদিন এখানে জলাবদ্ধতা ছিল না। এ কথাটা সত্য। এক সময় ছেলেমেয়েরা এখানে খেলাধুলা করতো। এখানে কারখানাগুলো গড়ে উঠায় খেলাধুলাতো দুরের কথা ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়ছে। ফলে বসবাসরত মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্তত তাদের কথা চিন্তা করে এর প্রতিকার দরকার হয়ে পড়ছে। তিনটি কারখানার বর্জের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে, মরছে মাছ, নষ্ট হচ্ছে ফসল, বিনষ্ট হচ্ছে আবাদী জমি, নানা ধরনের চর্ম রোগে আক্রান্তা হচ্ছে এলাকায় বসবাসরহ মানুষ। নানা সমস্যায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। যেকোন সময় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক অবরোধসহ মানব বন্ধনের হুশিয়ারী দেন। অনতি বিলম্বে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তোক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।