খুলনায় ইন্ডিয়া ভিসা এ্যাম্বাসিড়র শাখা অফিসের সামনে দালালচক্র বৃদ্ধি, বিভ্রান্তিতে জনসাধারণ

khulna-001খুলনা ব্যুরো ঃ ইন্ডিয়া ভিসা প্রসেসিং এ্যাম্বাসিড়র এর খুলনা শাখা অফিসের বাইরে দালালচক্রও জাল-জালিয়াতির সমগ্রম ও উপদ্রব দিনকে দিন বেড়ে চলছে। সাধারণ জনগন প্রসঙ্গত অফিসে নিজ প্রয়োজন মেটাতে ও গিয়ে চরমভাবে অর্থদন্ডি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ ব্যাপারে উক্ত এ্যাম্বাসিড়র অফিসের খুলনা শাখা প্রধানের সাক্ষাৎকারে সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় প্রদক্ষিণ শেষে জানা যায়, অফিসের বাইরে প্রধান সড়কের উপর বিশাল লম্বা লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থাকছে গ্রাহকবৃন্দ। এ্যাম্বাসির অফিসের প্রবেশ গেটে কাগজপত্রাদি পরীক্ষা শেষে গ্যাটম্যান/সিকিউরিটির অনুমতি নিয়ে ভেতর যেতে হচ্ছে গ্রাহকবৃন্দকে। কিন্তু কতিপয় দালালচক্র মাথা পিছু ২ শ ও তার অধিক টাকার বিনিময়ে লাইন ভঙ্গ করাচ্ছে। অবৈধভাবে লাইনে না দাড়ানো গ্রাহকদেরকে প্রসঙ্গত অসাধুভাবে গেট দিয়ে প্রবেশ করাচ্ছে। সূক্ষদৃষ্টি ভঙ্গীতে পরিলক্ষিত হয় যে, অফিসের সামনে আলোচ্য দণ্ডায়মান দালাচক্রর পকেটে থাকছে টোকেন। যা এ্যাম্বাসিড়র অফিসের ভেতর অপেক্ষারত গ্রাহকদেরকে কাউন্টার থেকেদেয়া হয়। দালালচক্র মাথাপিছু টাকা নিয়ে তার মক্কেলদেরকে ধরিয়ে দিচ্ছে আলোচ্য টোকেন। দালালদের গোপন যোগসাজোশ থাকাতে লাইনে না দাড়িয়ে উক্ত গ্রাহক গেটে দাড়ানো সিকিউরিটিকে আলোচ্য টোকেন দিচ্ছে। সাংকেতকি ভাষা হিসাবে উক্ত গ্রাহক দালালচক্রের পতানো গল্প সূত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপির জন্য বাহিরে গিয়েছিলাম বলে মিথ্যা বিবৃতি দিচ্ছে। দালালচক্রের যোগসাজোশ থাকা সিকিউরিটি উক্ত টোকেন নিয়ে গ্রাহককে অসাধুপন্থা অবলম্বন করে ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যা নিতান্ডই সূক্ষ কারচুপি এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাড়ানো গ্রাহকদরে সাথে প্রতারণা বলে মন্তব্য আছে।

এছাড়াও উক্ত অফিসের আশপাশে গড়ে উঠেছে ফটোকপি ও অনলাইনের জন্য কম্পিটার দোকান। জানা যায়, এ দোকানগুলোর কয়েকটিতে জড়িত থাকছে ভুয়া ও জালজালিয়াতি ভাবে ভোটার আইডিকার্ড, নাগরিক সনদ পত্র, এবং ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরীর কারিগর। উক্ত অফিসে ভিসা নেবার জন্য হাজির হওয়া গ্রাহকবৃন্দ কাগজপত্র ফটোকপির জন্য এ দোকানগুলোতে গেলেই পড়তে হয় আলোচ্য দালালচক্রর খপ্পড়ে। দালালচক্র এ সকল গ্রাকদেরকে নানা প্রকার অফিসিয়াল বিভ্রান্ডিকর তথ্য দিয়ে ঘাবড়ে দিচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এ দালালচক্র কাগজপত্র প্রসেসিং করছে এবং কোন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস না থাকলে তা তৈরী করছে বলে তথ্য আছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন ইন্ডিয়া ভিসা শাখা অফিসের প্রধান জনাব মোঃ এরশাদ আলী খান প্রতিবেদককে জানান, আলোচ্য বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অবগত নই। তাছাড়া এসব ঘটছে অফিসের বাইরে। যার জন্য আজ সোনাডাঙ্গা থানার ওসিকে বিষয়টি আইনগত ভাবে দেখার জন্য বলা হয়েছে। সর্বোপরি যখন অভিযোগ এসেছে আমরা বিষয়টি অবশ্যই দেখব।

শাখা প্রধানের সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে উক্ত কক্ষে এক গ্রাহককে ভুয়া আইড কার্ড জমা দেবার জন্য এক  আটক দেখান হয়। উক্ত গ্রাহকের নিকট থেকে জানা যায়, তার নাম রায়হান মোলা। অফিসের পাশ্বে রাজ এন্টাপ্রাইজ থেকে এ আইডিকার্ড তৈরী করা হয়েছে। সেই মুহুর্তে উক্ত গ্রাহকের আর কোন বক্তব্য নিতে দেয়া হয়নি প্রতিবেদককে।