কক্সবাজারের নুনিয়ার ছড়ায় নির্বিচারে ধবংস করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল

coxএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :

কক্সবাজার শহরে উত্তর নুনিয়ার ছড়ার বাকঁখালী নদী সংলগ্ন মাঠের জুরা নামক স্থানে নির্বিচারে ধবংস করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। গত কয়েক দিন ধরে পরিবেশ বিধংসী এ ধরনের ধবংসযজ্ঞ চালিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় কয়েকজন যুবক মিলে প্রকাশ্যে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংস করলেও উপকুলীয় বনবিভাগের কর্মীরা রহস্যজনক নিরবতা পালন করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উপকুলীয় বনবিভাগের মহেশখালী গোরঘাটা রেঞ্জাধীন পোকখালী বিটের আওতাধীন কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে উত্তর নুনিয়ার ছড়ার বাকঁখালী নদী সংলগ্ন মাঠের জুরা নামক স্থানে গত ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে  ম্যানগ্রোভ বনটি গড়ে তোলা হয়। দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীর মোহনায় উত্তর নুনিয়ারছড়া মসজিদে আল খিজারির পূর্ব  পার্শ্বে ও সেনা বাহিনীর জমি পার্শ্বস্থ মাঠের জুরা নামক স্থানে পাড়ে বেড়ে ওঠা বাইন, কেওড়া, ছৈলা ও গেওয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ২ একর জমির গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে ।

স্থানীয় কয়েকটি সুত্র জানিয়েছেন, উত্তর নুনিয়াছড়ার এলাকার বিএনপি সর্মথিত তানভীর, ইমরান, বাহাদুরের নেতৃত্বে  ১০/১৫ জন ব্যক্তি ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট নির্বিচারের কাটার পাশাপাশি সেখানে ঘরও নির্মাণ করেছে।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, গাছ কাটার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ হুশিয়ারি থাকলেও কার্যকর হচ্ছে না চট্টগ্রাম উপকুলীয় বনবিভাগের মহেশখালী গোরঘাটা রেঞ্জাধীন পোকখালী বিটের আওতাধীন কক্সবাজার উত্তর নুনিয়ার ছড়া এলাকায়। প্রতিনিয়তই বাইন, কেওড়া, ছৈলা ও গেওয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। জলবায়ু পরিবর্তনের (গ্রীন হাউস এপেক্ট) কারণে বাংলাদেশে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই সরকারের সঙ্গে পরিবেশবিদরা ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করার পাশাপাশি গণসচেতনা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ম্যানগ্রোভ সমৃদ্ধ বনাঞ্চলের গাছ কেটে ধ্বংস করছে উত্তর নুনিয়ার ছড়া এলাকার পরিবেশ বিধংসীলোকজন।

এদিকে, এলাকাবাসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন পূর্বে পুলিশ ও বন কর্মীরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। পরির্দশন কালে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংসলীলা দেখলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি বনবিভাগ। বনকর্মীরা ওই সব দুর্বৃত্তদের সাথে আতাঁত করে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংসের কাজে সহযোগীতা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, গত ৭ মার্চ বিকাল ৫ টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের ইন্সপেক্টর মোঃ জাহেদও ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। তবে বাধা মুখে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংসযজ্ঞ চালানো স্থানে পৌঁছতে দেয়নি বনাঞ্চল ধবংস কাজে জড়িত লোকজন।

উপকুলীয় বনবিভাগের পোকখালী বনবিট কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকায় ইতোপূর্বে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংসকারীলোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরাবরের মতো ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ধবংসকারী ও বনভুমি দখলদারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থানেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।