খুলনার পাইকগাছা উপজেলা নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে তৎপর ১৯ দলীয় জোট

upozila elec খুলনা ব্যুরো ঃ খুলনার পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সপ্তাহখানেক বাকী থাকলেও এখনও পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল আ’লগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোন তৎপরতা দেখাযায়নি বলে তৃনমুল নেতাকর্মীদের অভিযোগ। অপরদিকে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। জোটের শীর্ষ পর্যায়ের এসব নেতারা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় একাধিকবার সফর করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ ব্যাপক গনসংযোগ করেছে। আ’লীগের শীর্ষ নেতারা তৎপর না হলে জেলার সদ্যসমাপ্ত ৩ উপজেলার ন্যয় এ উপজেলাতে ক্ষমতাসীনদলের চরম ভরাডুবি ঘটতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন। আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদে ৬, ভাইস চেয়ারম্যানপদে ৭ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪সহ মোট ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যানপদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান (আনারস), ১৯ দলীয় জোট মনোনিত জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা সাবেক এমপি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স.ম বাবর আলী (দোয়াত কলম), উপজেলা জাপা ও পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ঘোড়া, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল (কাপপিরিচ), বাস্তব প্রতিষ্ঠাকরণ পার্টির (স্বঘোষিত) প্রতিষ্ঠাতা কবি ডাঃ আব্দুর রশীদ (চিংড়ী মাছ), শেখ সরোওয়ার্দ্দী (মটরসাইকেল)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোট মনোনিত জামায়াতের উপজেলা আমির মাওঃ কামাল হোসেন (টিউবওয়েল), আ’লীগ মনোনিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলহাজ্ব মুজিবর রহমান সানা (তালা), বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুল গফুর (টিয়াপাখি), এ্যাড. এসএম মুজিবর রহমান (বই), যুবদল নেতা শেখ শামসুল আলম পিন্টু (উড়োজাহাজ), ইউনাইটেড কমিউনিষ্টলীগের শাহজাহান সিরাজ সাজু (চশমা), ডাঃ টিকেন্দ্রনাথ (মাইক)। মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৯ দলীয় জোট মনোনিত রাবেয়া হোসেন (হাঁস), আ’লীগ মনোনিত ইউপি সদস্য দীপ্তি চক্রবর্তী (পদ্মফুল), জামায়াত মনোনিত শাহানারা খাতুন (কলস) ও ওয়ার্কাস পার্টির মাছুমা খাতুন (ফুটবল)। এদিকে এদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচনের ন্যয় দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করছে ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। জোটের এসব শীর্ষ নেতারা একাধিকবার এ উপজেলা সফর করে চাঙ্গা করে তুলেছেন সংগঠনের তৃনমুল নেতাকর্মীদের। পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান মনি বলেন-শীর্ষ নেতাদের সফরের পর দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে দ্বিধাবিভক্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন উপজেলা স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সরকার ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহিন নির্বাচন করায় উপজেলা নির্বাচনকে ১৯ দলীয় জোট চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জোটের মনোনিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো সফর করা হচ্ছে।এদিকে নির্বাচনের সময় প্রায় শেষদিকে হলেও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের তৃনমুল নেতাকর্মীরা। আ’লীগ নেতা স্নেহেন্দু বিকাশ জানান সদ্য সমাপ্ত জেলার ৩ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডুবি ঘটলেও দলের অনেক শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখনও কানে পানি ঢোকেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেষ মুহুর্তে হলেও দলের শীর্ষ নেতারা তৎপর হলে সম্ভাবনাময় এ উপজেলায় দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিজয় সম্ভব বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে জেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ হারুন-অর-রশীদ জানান সাংগঠনিকভাবে আ’লীগের অবস্থা অনেক ভাল। এক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে। তারপরও দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিজয় নীশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় দ্রুত সফর করা হবে বলে তিনি জানান।