টাঙ্গাইলের প্রতারিত গৃহবধূ ছিয়াতন কিডনী হারিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে

Tangail-Ghatail-seyaton begom(1).টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মমিনপুর গ্রামের গৃহবধূ ছিয়াতন বেগম দালালের প্রতারণায় কিডনী হারিয়ে প্রতিকারের আশায় অসুস্থ্য শরীরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কখনো থানা পুলিশ আবার কখনো রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ঘুরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন তিনি, প্রতিকার মেলেনি।

জানাগেছে, ঘাটাইল উপজেলার মমিনপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মেছের আলীর স্ত্রী ছিয়াতন বেগম(৫২) পেটের নিচে ডান দিকে ব্যথা অনুভব করায় স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে অ্যাপেন্ডিসাইড অপারেশনের পরামর্শ দেন। একই গ্রামের মৃত চান্দু মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান(৫৪) ওরফে মোন্নাফ কম খরচে অপারেশন করানোর আশ্বাস দিয়ে বিগত ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের চরপাড়াস্থ ‘হক নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াবেটিক সেন্টারে’ ভর্তি করান। অপারেশনের পর ছিয়াতন বেগমকে একই সালের ২৪ জানুয়ারি বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পর পুনরায় তার শরীরের ওই অংশে ব্যথা অনুভূত হয়, শরীরের ধীরে ধীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে টাঙ্গাইল ফেয়ার ক্লিনিক, আমিনা ক্লিনিক এবং গাজিপুরের টঙ্গিস্থ ইন্টরন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান তার শরীরের ডান পাশের একটি কিডনী নেই। দীর্ঘদিন আগে অপারেশন করে একটি কিডনী শরীর থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহের হক নার্সিং অ্যান্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের দালাল আব্দুল মান্নান ওরফে মোন্নাফকে নিয়ে গ্রামে সালিশী বৈঠক বসে। সালিশে মোন্নাফ হক নার্সিং হোমে অপারেশনের কথা স্বীকার করেন। বৈঠকে রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারশ্যান মাসুদ, মাতব্বর মো. নজরুল ইসলাম, মমিনপুর স্কুলের শিক্ষক আব্দুল কাদের, মাতব্বর আ. কদ্দুছ, ডা. শাহীন, আলমাস উদ্দিনের উপস্থিতিতে প্রকাশ করা হয়, স্থানীয় ৬/৭জন রোগীকে মোন্নাফ ওই ক্লিনিকে স্বল্প খরচে অপারেশন করিয়েছেন এবং তারা সবাই বর্তমানে নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগছে। এ বিষয়ে মোন্নাফ সহ হক নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রতিকার পাওয়ার জন্য গৃহবধূ ছিয়াতনের পক্ষে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ওই ক্লিনিকের দালাল আব্দুল মান্নান ওরফে মোন্নাফ জানান, তিনি ছিয়াতনকে ময়মনসিংহের হক নার্সিং হোমে কম খরচে অপারেশন করিয়েছেন। এজন্য তিনি কমিশন পেয়েছেন আর ডাক্তার কি অপারেশন করেছেন তা তিনি বলতে পারবেন না। তিনি এলাকার মানুষের উপকার করতে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান।

ময়মনসিংহের চরপাড়াস্থ হক নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়বেটিক সেন্টারের পরিচালক ও চিকিৎসক ডা. এসএইচএম খাদেমুল হক জানান, ছিয়াতন বেগমের অ্যাপেন্ডিসাইডের অপারেশন করা হয়েছিল। তিনি যে অভিযোগ করছেন তা সত্য নয়। এতদিন পরে অভিযোগ কেন। জন্মগতভাবেও একটি কিডনী না থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অসুস্থ্য ছিয়াতন বেগম জানান, হতদরিদ্র স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসারই চলে না। তার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এবং ওষুধ কিনতে প্রতিদিন টাকা লাগছে। এ অবস্থায় মামলার টাকা যোগান দেয়া তার পক্ষে দুরূহ। সেজন্য তিনি মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগীতা চান।