হাসপাতাল আছে, যন্ত্রপাতিও আছে: নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক!

Bibariaব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল, এ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এখানকার প্রসূতিদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ।উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র এ হাসপাতালটি ২০০৪ সালে ৩১ শয্যা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানেরে ক্ষেত্র কোন প্রকার উন্নতি হয়নি। এখানে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও আজ পযর্ন্ত কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।ফলে অপারেশন থিয়েটারে স্থাপিত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অযত্ন অবহেলা, অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় যন্ত্রপাতি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এখানে দূর্গম ৬টি ইউনিয়নসহ দুর- দুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে রোগীরা অসহনীয় দূভোর্গের শিকার পোহাতে হচ্ছে। তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের হাসপাতালে যান।বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সিজারিয়ান (সিজার) করা জরুরি হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। বিশেষ করে গাইনি কোন ডাক্তার না থাকায় মহিলা রোগীদের চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।এখানে ৭ বছর ধরে এক্সরে করার মেশিন নেই। সম্প্রতি নতুন এক্স-রে মেশিন আসলেও প্রতিস্থাপন ও মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওগ্রাফি) অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া বছরের পর বছর অব্যবহৃত ও তালা বন্ধ থাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সব চিকিৎসার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ভুক্তভোগীরা জানায়, এক্সরে মেশিন, রক্ত পরীক্ষাসহ ইসিজি ও জরুরী প্রসূতি (ইওসি) কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রোগীরা রক্ত পরীক্ষাসহ এক্সরে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বাহিরে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চড়া মূল্য দিয়ে এসব পরীক্ষা করতে হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডাঃ জিয়াউল ইসলাম সেলিম জানান, ২০১১ সালে ৬ টি সিজারিয়া হলেও তারপর থেকে সংশিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এবিষয়ে একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকবল পেলেই প্রসূতি বিভাগের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

তাউছ মিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া