নরসিংদীতে সাবেক মন্ত্রী রাজুর গাড়ীতে আ’লীগ নেতাকর্মীদের জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, আহত ৭

narsingdicনরসিংদী প্রতনিধি : রায়পুরা উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে রায়পুরার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর গাড়ীতে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ তৃনমূল নেতাকর্মীরা। বুধবার রায়পুরা উপজেলা সদরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় মিজানুর রহমান, আক্কাছ আলী, জিতু ও জয়নালসহ উভয় গ্রুপের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদেরকে জরুরী ভিত্তিতে ভৈরব হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।  এদিকে মন্ত্রী রাজুও বেসামাল পরিস্থিতিতে ঘটনাক্রমে অক্ষত অবস্থায় দ্রুত ঢাকায় চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছে, রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শনিবার (১ মার্চ) তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এড. সামসুল হক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ১৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপর দিকে ১৩৮ ভোট লাভ করেন রায়পুরার এক সময়কার সেকেন্ড মিনিস্টার হিসেবে খ্যাত সাবেক মন্ত্রী রাজুর একান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি আব্দুস সাদেক। ১৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয়স্থান লাভ করেন বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। সবচেয়ে কম অর্থাৎ মাত্র ৫৫ ভোট লাভ করেন রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এই ভোট গ্রহণকালে এড. সামসুল হক দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দিনভর প্রচার প্রোপাগান্ডা করেন মন্ত্রী রাজুর ভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে এড. সামসুল হককে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষনা করার কথা থাকলেও, সাবেক মন্ত্রী রাজুর নির্দেশে এড. সামসুল হককে সেদিন প্রার্থীতা করেনি। উপরন্তু ভোটে বিজয়ী প্রার্থী এড. সামসুল হকের বিরুদ্ধে সবেক মন্ত্রী রাজুর সমর্থকরা অভিযোগ তোলেন যে, এড. সামসুল হক টাকা দিয়ে তৃণমূলের ভোট ক্রয় করে জয়ী হয়েছেন। যার ফলে সামসুল হকের প্রার্থীতা ঘোষনা না দিয়ে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনায় সামসুল হকের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রার্থী বিরোধ নিয়ে বৈঠকে বসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুরার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। কথা ছিল বৈঠকের পর এড. সামসুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে সাবেক মন্ত্রী রাজু আগামী ১০ মার্চ প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ীতে চড়তে গেলে এড. সামসুল হকের উত্তেজিত সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে রাজু দ্রুত গাড়ীতে চড়ে ঢাকায় চলে যাবার পথে সামসুল হকের সমর্থকরা তার গাড়ীতে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় ছাদেক সমর্থকরা পাল্টা সামসুল হকের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে এড. সামসুল হকের সমর্থক ৭ জন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে মিজান ও আক্কাছ আলীর অবস্থা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকেরা আক্কাছ আলীর একটি মোটরসাইকেলও ভাংচুর করেছে। এই ঘটনার পর রায়পুরার হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময়ই বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে শান্তি প্রিয় জনগন।