মায়ানমারের শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

pm-mynmar+president_57018বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে সে দেশের সরকারের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার বিকালে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সে দেশের রাষ্ট্রপতি থেইন সেইনের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান।

শেখ হাসিনা তৃতীয় বিমসটেক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে মায়ানমারের রাজধানী নে পি ত’য়ে অবস্থান করছেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের একথা জানান।

আলোচনায় উভয় নেতা এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সবসময়ই অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মাটি কখনই কোন বন্ধু রাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহৃত হবে না।

প্রধানমন্ত্রী মায়ানমারকে ঘনিষ্ট প্রতিবেশি উল্লেখ করে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

তিনি দারিদ্যকে এ অঞ্চলের প্রধান ও অভিন্ন শত্রু হিসাবে বর্ণনা এবং আঞ্চলিক কানেকটিভিটির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এতে পারস্পারিক বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের জনগণ তা থেকে অনেক সুবিধা পাবে।

তিনি মায়ানমারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন।

মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, তার নেতৃত্বে মায়ানমারের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে।

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন উভয় দেশের বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভারত, থাইল্যান্ড ও মায়ানমার সংযোগ সড়ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, বাংলাদেশ চাইলে এতে অংশীদার হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-মায়ানমার-কুনমিং (চীন) সড়ক চালু হলে তা এ অঞ্চলের কানেকটিভিটি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। এতে পারস্পারিক ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে।

শেখ হাসিনা মায়ানমারের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে এই সফরে আসার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, এ্যাম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এম আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল উপস্থিত ছিলেন।