আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আর ১৯ দলের সমন্বয়হীনতার কারনেই ফলাফল নিজেদের ঘরে আসেনি

dddনুরন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে প্রথম ও দ্বিতীয় ৬টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ২টিতে আ’লীগ এবং ৪টিতে বিজয়ী হয়েছেন ১৯ দলের প্রার্থীরা। আ’লীগ বলছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের একাধিক প্রার্থী থাকার কারনেই তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল ঘরে আসেনি। আর ১৯ দলের নেতৃবৃন্দ বলছে তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারনেই ২টি উপজেলার ফলাফল তাদের ঘরে আসেনি। তা না হলে ওই ২টি উপজেলাতেও তাদের প্রার্থীরাই বিজয়ী হতো।

গত ১৯ ফেব্র“য়ারী দিনাজপুরের কাহারোল ও খানসামা এবং গত ২৭ ফেব্র“য়ারী দিনাজপুরের বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, বীরগঞ্জ ও চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ৬টি উপজেলার মধ্যে কাহারোল, খানসামা ও ঘোড়াঘাটে বিএনপি’র প্রার্থী, চিরিরবন্দরে জামায়াতের প্রার্থী এবং বীরগঞ্জ ও বিরামপুরে আ’লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

১৯ দলের পক্ষে কাহারোল ও খানসামায় বিএনপির একক এবং চিরিরবন্দরে জামায়াতের একক প্রার্থী ছিল। ঘোড়াঘাটে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের কোন প্রার্থী ছিল না। যার কারনে ওই ৪টি উপজেলায় ১৯ দলের পক্ষে বিজয় এসেছে। অপরদিকে বীরগঞ্জ ও বিরামপুরে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীর পাশাপাশি ছিল জামায়াতের প্রার্থী। যার কারনে এই দু’টি উপজেলায় আ’লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে বলে জানান জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর এ্যাড. মাহবুবুর রহমান ভুট্টু।

তবে তিনি জানান, জনগন বুলেটের জবাব ব্যালটে দিয়েছে। জনগন ১৯ দলের পক্ষে এবং তারা সরকারের বিপক্ষে রায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

এদিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল জানান, মানুষ আ’লীগের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আ’লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ হিসেবেই মানুষ ১৯ দলের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। তবে যারা নির্বাচিত হচ্ছেন তাদেরকে প্রকৃত ক্ষমতা প্রদান করার প্রতি গুরুত্বারোপ করলেন এই উপজেলা চেয়ারম্যান।

তবে যে ২টি উপজেলায় আ’লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে তা ১৯ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারনেই হয়েছে এবং আগামীতে এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে ১৯ দলের প্রার্থীরাই বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ করেন তিনি।

অপরদিকে ৬টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ২টি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন আ’লীগের প্রার্থীরা। বাকী ৪টিই গেছে বিরোধীদলীয় জোট ১৯ দলের ঘরে। নির্বাচনে আ’লীগের প্রত্যাশিত ফলাফল না হওয়ার পেছনে একাধিক প্রার্থী হওয়াকেই দায়ী মনে করছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা আশফাক হোসেন।

এই নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আসন চিরিরবন্দর ও খানসামায় ১৯ দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। খানসামায় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর চিরিরবন্দরে একক প্রার্থী ও চেষ্টা থাকলেও ভোট স্বচ্ছ হয়েছে আর জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে বলে জানান এই আ’লীগ নেতা।

উপজলা নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে মতামত না নেওয়া ও একাধিক প্রার্থী হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলাফল হয়নি বলে মনে করেন দিনাজপুর সতেচন নাগরিক কমিটির এই নেতা। তাছাড়া সংসদ নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতার বিষয়টিরও উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।##