জাবি ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র,সংঘর্ষ, গোলাগুলি, দু’জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০

mail.google.comggজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরের অবহেলা আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে আবারো রণক্ষেত্রে পরিণত হল দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর।

২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নতুন বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ভ্রাম্যমান ঢাকা বিরিয়ানী এন্ড চটপটী হাউজে চাঁদাবাজী  ও পরবর্তীতে বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে।

রবিবার বিকেল সাড়ে চারটায় শহীদ সালাম বরকত ও মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় প্রায় উভয়পক্ষ ১০ রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে গুরুতর আহতদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, দুপুর দুইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ ঢাকা বিরিয়ানী ও চটপটি হাউজে খাবারের মূল্য পরিশোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। মীর মোশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের প্রায় ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী এ দোকানে দুপুরের খাবার খায়। পরে এ খাবারের দাম প্রায় চার হাজার হলেও জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  ফয়সাল আহমেদ দীপু ১৫০০ টাকা দিতে সম্মত হয়। বাকী টাকা পরে দিতে সম্মতি জানিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে এ দোকানের মালিক লাভলু শহীদ সালাম বরকত হলের ৩৯ তম আবর্তনের তাজকে জানালে তিনি সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলকে জানান। তিনি এ ঘটনাটি মীমাংশা করার জন্য এলে সালাম বরকত হলের নেতাকর্মীরা মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এর একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে উভয় পক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ৪০ ব্যাচ), আলবেরুনী সম্প্রসারিত ভবন হলের রেজাউল বকরিম রচি (৪১ ব্যাচ, ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগে), আশিক (৪১ ব্যাচ, প্রতœতত্ত্ব বিভাগ) নাফিজ (রসায়ন,৪২), সাদ্দাম (দর্শন,৩৯)। এছাড়া রাসেল নামের ৩৭ তম ব্যাচের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ আরো একজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রচির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের এনাম মেডিকেল সেন্টারের  পাঠানো হয়েছে। পরে দু’হলের নেতাকর্মীরাই নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। এ সময় লাভলুর দোকান ভাঙচুর করা হয়।

এরপর সালাম বরকত হলসহ অন্যান্য হলের প্রায় তিন শতাধিক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, রড, চাপাতি, পাইপ, রামদা, লাঠি, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মীর মশাররফ হলের নেতাকর্মীদের পেটানোর জন্য তাদের হল আক্রমণ করলে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। এ সময় উভয় পক্ষই প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। এতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়। তারা হলেন শহীদ সালাম বরকত হলের নেহাল (ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৪১তম আবর্তন) ও আল বেরুনী (সম্প্রসারিত) হলের শেফা (নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ, ৪১ তম আবর্তন) পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ দু’জনকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়ে।

এ সময় উভয় পক্ষই ইটপাটকেল ছুঁড়লে প্রায় ২০ জনের অধিক আহত হয়। এতে সালাম বরকত হলের মাহমুদ, রাসেল, রিপন, মনির, সাদ্দাম, মজিদ, তৌহিদ, আলামিন, নিশাত ইমতিয়াজ বিজয়, প্রফুল্ল, আসাদ, সবুর, সাঈদ, সাকলাইন, তারেক, সিদ্দিকুর, নিজাম, আলমগীর, জাহাঙ্গীর, দিদার, রাকিব, মিতুল, পলাশ, সানোয়ার আহত হয়। এদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের টিটো, সাজ্জাদ, সনেট, আলামিন সহ আরো অনেকে আহত হয়। এরা প্রত্যেকেই সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে মহিতোষ রায় টিটোর চোখে ও পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় মীর মোশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন আরো প্রায় চার-পাঁচটি দোকান ভাঙচুর করে তারা ।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল ও ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম ও সাভার-ধামরাই সার্কেলের উপ-পরিদর্শক (এএসপি) রাসেল শেখসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে এ ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার আগে থেকেই প্রশাসন ও প্রক্টর সতর্ক থাকলে এ ধরনের সংঘর্ষ হতো না।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুজবুর রহমানের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত  সাংগাঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ দীপু জানান, ক্যাম্পাসের পট পরিবর্তন হয়েছে বলে পরিকল্পিতভাবে সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়। চার হাজার টাকার খাবারের মুল্য ৫০০ টাকার দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ৫০০০ টাকার খাবার খেয়ে ৫০০ টাকা দেয়ায় প্রতিবাদ করলে সাংগাঠনিক সম্পাদক দীপু ছাত্রদলকর্মী নাহিদসহ হলের অন্যান দের নিয়ে আমার জুনিয়রদের উপর হামলা করে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাকি করে তুলতে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারাজানা ইসলাম শিক্ষক প্রতিনিধি, প্রক্টরিয়াল বডি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলসহ অন্যান্য হলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি সভা ডাকেন। সভাটি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে শুরু হয় বলে জানা গেছে।