সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরগুলো অরক্ষিত

PIC-Sinamgnj 01.03.14অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি কাজ। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মূহুর্তে অকাল বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে হাওরগুলোতে উৎপাদিত বোরো ফসল। এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। নলুয়ার হাওর পোল্ডার-১ ও পোল্ডার-২। জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আওতাভূক্ত ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মেরামত কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। পিআইসি ও ঠিকাদারী প্রথায় শুরু হওয়া কাজ এখনো শেষ হয়নি। ৫ সদস্য বিশিষ্ট পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং সদস্যরা হচ্ছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ১ জন আনসার ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় এমপি কর্তৃক  মনোনীত ৩ জন। মোট ২১ টি পিআইসি কমিটির অধীনে ৬৭ কিলোমিটার ও ঠিকাদারের অধীনে ৫ কিলোমিটার কাজ শুরু হয়। বাঁধের ভাঙনের মাত্রা অনুযায়ী ৩ থেকে ৭ ফুট উচ্চতা ও ১২ ফুট প্রস্থের মাপে কাজ করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় কর্তৃক সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়। এবার পিআইসি প্রথায় ৯৮ লক্ষ টাকা ও ঠিকাদারী প্রথায় ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিগত ৮ জানুয়ারি বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল। শেষ হওয়ার কথা ছিল গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কাজের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি কাজ। কাজ শেষ না হলেও তুলে নেয়া হয়েছে সিংহভাগ টাকা। কৃষকরা জানিয়েছেন এ পর্যন্ত মাত্র ২০ থেকে ২৫ ভাগ কাজ করা হয়েছে। যদিও পাউবোর দাবি ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ কাজ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯৮ লক্ষ টাকার মধ্যে দুই দফায় পিআইসি কমিটিগুলো ৫০ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছে। সেই সাথে ৯০ লক্ষ টাকার মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তুলে নিয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা।

নলুয়ার হাওর পাড়ে অবস্থিত ভূরাখালী গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান, দিলদার হোসাইন, মাসুক মিয়া, ছফির মিয়া, রান্টু দাসসহ কৃষকরা জানান, ঠিকাদাররা সময়মতো কাজ শেষ করেন না এটি নতুন কিছু নয়। তবে এবার নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে আউখড়া মেশিন। এ মেশিন দিয়ে বাঁধের একদম কাছ থেকে গভীর খাল করে মাটি তোলার  কারণে বাঁধ মজবুত হচ্ছে না। নদীতে পানি আসার সাথে সাথে বাঁধটি ভেঙে হাওরগুলোতে উৎপাদিত বোরো ফসল তলিয়ে যাবে। সেই সাথে মেশিন দিয়ে কাজ করানোর কারণে মাটি কাটার কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার প্রায় এক হাজার দিনমজুর শ্রমিক। প্রতি বছর মাটি কাটার কাজ করলেও এবার তারা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম অভাব-অনটন । তারা আরো জানান, ঠিকাদারী প্রথা অনেক পুরনো হলেও এবার নতুন করে সংযোজন হয়েছে পিআইসি প্রথা। তারা অভিযোগ করে জানান, পিআইসি কমিটির লোকজনও সঠিকভাবে কাজ করছেন না। তারা প্রশ্ন রেখে জানান, পিআইসি কমিটির ইউপি সদস্য ও আনসার ভিডিপি সদস্যকে চিনলেও এমপি মনোনীত সদস্য এরা কারা তাদেরকে তো আমারা চিনি না বা হাওর এলাকায় কোন দিন দেখিনি।

এ ব্যাপারে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুল তাহিদ জানান, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধে কাজ করানোর কারণে প্রতি বছর ভেঙে যায়। গত বছর বাগময়না গ্রামের পাশে পদ্ধার ঢালা বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওরগুলোতে উৎপাদিত বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এবারো এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। যদিও এ বাঁধের কাজ পাওয়া পিআইসি কমিটির সভাপতি রানীগঞ্জ ইউপি সদস্য আব্দুল তাহিদ জুয়েল জানান, শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

আরেক পিআইসি কমিটির সভাপতি চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মাহমুদ স্বীকার করে জানান, জাতীয় নির্বাচনের ঝামেলার কারণে ও মাটি কাটার জায়গা সংকটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে আরো ৭/৮ দিন সময় পেলে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (এসও) নিজাম উদ্দিন দাবি করে জানান, বাঁধে এ পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ কাজ হয়েছে। যদিও কৃষকরা জানিয়েছেন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ভাগ কাজ হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ কাজের বিপরীতের পিআইসি কমিটিগুলো ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা তুলে নিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এলেন কনক্ট্রাকশন কোন টাকা নেয়নি। যদিও পাউবোর অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ইতোমধ্যে ৪০ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাঁধের পুরো কাজ শেষ করতে তাদেরকে আরো ১০/১২ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়া হবে। এদিকে-চেষ্টা করেও ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। #