চট্টগ্রামে দুটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং করলেন প্রধানমন্ত্রী

pm_sheep_1_56523বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যোগ হলো আবু বকর ও আলী হায়দার নামের আরও ২টি যুদ্ধজাহাজ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি জাহাজের নামফলক উন্মোচন ও কমিশনিং করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তার দেওয়া বক্তব্যে আধুনিক নৌবাহিনী তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামে নৌ বাহিনীর দুটি যুদ্ধ জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের জলসীমা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর জলসীমা রক্ষায় নৌ বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে কেবল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায়ও বাংলাদেশের নৌবাহিনী ভূমিকা রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

দেশের অধিকাংশ মানুষ সমুদ্র এবং এর সম্পদের ব্যাপারে সচেতন নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জলপথে দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত করতে এই বাহিনীতে ২০১৫ সালের মধ্যে দুটি সাবমেরিক সংযোজেন করা হবে।

পটুয়াখালীর রামনাবাদে একটি বৃহৎ নৌঘাঁটি স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপনেরও চিন্তা-ভাবনা চলছে।

তিনি নৌবাহিনীর কর্মীদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, চীন থেকে কেনা যুদ্ধজাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘আবু বকর’ এর আগে গত ৯ জানুয়ারি চীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছায়।

‘জিয়াংহু-৩’ ক্লাসের মিসাইল ফ্রিগেট দুটি দৈর্ঘ্যে ১০৩ দশমিক ২২ মিটার এবং প্রস্থে ১০ দশমিক ৮৩ মিটার। জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। আধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ দুটি বিমান বিধ্বংসী কামান, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্র তলদেশে সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্তকরণসহ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে (টার্গেট) আঘাত হানতে সক্ষম।

সফরসূচি মোতাবেক পরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় হতাহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এদিকে বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশ নিরাপত্তা জনিত কারণে তা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।