নোয়াখালীতে নিহত ১, যশোরে আফিলের গাড়ি ভাঙচুর শঙ্কা-আতঙ্কের ভোট আজ

up-electionশঙ্কা আর আতঙ্কের মধ্যেই উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটযুদ্ধ আজ। শেষ মুহূর্তে হামলা-সংঘর্ষ হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হামলা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়িতে। নির্বাচনী প্রচারণা না থাকলেও গতকাল কয়েকটি স্থানে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সহিংসতার। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সহিংসতার আশঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে। নোয়াখালীর সুধারামে জনসংযোগকালে বোমা হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা গতকাল মারা গেছেন। সোমবার রাতে গণসংযোগকালে তিনি আহত হন। এদিকে গতকাল কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বৈঠক চলাকালে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন। যশোরের ঝিকরগাছায় সাবেক এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে ছুরিকাহত হয়েছেন এক ইউপি  চেয়ারম্যান। দ্বিতীয় ধাপে  ১১৫টি উপজেলার আজ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২য় ধাপে ১১৭ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও দু’টি উপজেলায় ভোট হচ্ছে না আজ। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার  ভোট হবে ১লা মার্চ এবং চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা নির্বাচনে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে  বেশি সহিংসতার আশঙ্কা করছে ইসি। প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে থাকায় ২য় ধাপের নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনৈতিক প্রভাব বেশি থাকবে। এতে করে সহিংসতা বাড়তে পারে বলে জানান ইসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ঢাকার কেরানীগঞ্জ, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, মতলব (উত্তর), মতলব (দক্ষিণ), সদর, ও ভোলার চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায়  অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসব উপজেলায় সহিংসতার আশঙ্কা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়ে ইসিতে চিঠি দেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার রিটার্নিং অফিসাররা। এর প্রেক্ষিতে এসব উপজেলায় অতিরিক্ত এক প্লাটুন র‌্যাব ও বিজিবি এবং ভোলার উপজেলাগুলোতে  অতিরিক্ত এক প্লাটুন কোস্টগার্ড  মোতায়েনের নির্দেশ দেয় ইসি। এদিকে নির্বাচন কমিশনার মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ গতকাল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ছোটখাট সহিংসতা হতেই পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরবর্তী ধাপগুলোতে যেন কোন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। তবে কিছু সহিংসতা হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে কোন ছাড় না দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে  সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে  ব্যাপক বাতিল ভোট পড়ার কারণ জানতে চাইলে শাহ নেওয়াজ  বলেন, ভোট নষ্ট হওয়ার সঠিক কারণ আমরা এখনও চিহ্নিত করতে পারিনি। কোন দলের সমর্থিত প্রার্থী বেশি সুবিধা পাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন প্রার্থীই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে না। তাছাড়া সবার অভিযোগ আমলে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের  নির্দেশ দেয়া আছে যাতে কাউকে কোন বিশেষ সুবিধা দেয়া না হয়।
দ্বিতীয় ধাপে যেসব উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে- পঞ্চগড় জেলার  তেঁতুলিয়া, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, দিনাজপুর  জেলার ঘোড়াঘাট, চিরিরবন্দর, বিরামপুর, বীরগঞ্জ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, সদর, হাতীবান্ধা, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রাজীবপুর। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, কালাই, সদর, বগুড়ার কাহালু, শিবগঞ্জ, আদমদিঘী, শাজাহানপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জের  গোমস্তাপুর, নওগাঁর আত্রাই, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, বদলগাছি, সদর, সাপাহার, রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, লালপুর, সদর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া।  মেহেরপুরের গাংনী, মুজিবনগর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, যশোরের  চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, শার্শা, মাগুরার মহম্মদপুর, শালিখা, বাগেরহাটের কচুয়া, ফকিরহাট, খুলনার ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরার শ্যামনগর।  ভোলার চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন, বরিশাল সদর, পিরোজপুরের কাউখালী, নাজিরপুর। টাঙ্গাইলের সখিপুর, জামালপুরের ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, শেরপুরের ঝিনাইগাতি, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, ভালুকা, সদর, নেত্রকোনার কলমাকান্দা, খালিয়াজুরী, পূর্বধলা, বারহাট্টা, মানিকগঞ্জ সদর, হরিরামপুর, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, সদর, ঢাকার  কেরানীগঞ্জ, সাভার, নরসিংদীর শিবপুর, ফরিদপুরের নগরকান্দা,  বোয়ালমারী, সালথা, গোপালগঞ্জের  কোটালিপাড়া, সদর, মাদারীপুরের রাজৈর, শিবচর, সুনামগঞ্জের দিরাই, সুনামগঞ্জ সদর। সিলেটের বালাগঞ্জ, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কুমিল্লার দেবীদ্বার, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, মতলব (উ:), মতলব (দ:), সদর, ফেনীর পরশুরাম, ফেনী সদর,  নোয়াখালীর কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, সদর, সোনাইমুড়ী, চট্টগ্রামের পটিয়া, লোহাগড়া, কক্সবাজার পেকুয়া, চকরিয়া, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, নানিয়ারচর, বান্দরবানের থানছি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও লামা।
সুধারামে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, সুধারামে উপজেলা নির্বাচনে গণসংযোগকালে দুর্বৃত্তের হামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হলে গতকাল বিকাল ৩টায় ঢাকা মেডিকেলে মাহবুবের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও ২জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিনমনি বাজার এলাকায় সোমবার রাতে গণসংযোগকালে তারা ওই বোমা হামলার শিকার হন। আহতরা হলেন, নেয়াজপুর ইউপি’র মনপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মিলন (৩৫) ও ১০নং অশ্বদিয়া ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নবাব চৌধুরী (৩৪)। নিহত মাহবুবের ২ হাতের কব্জি উড়ে যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর আহত নবাব চৌধুরীর ২টি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।
যশোরে শেখ আফিলের
গাড়িতে হামলা
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরে এবার নিজ দলের কর্মী সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হলেন শেখ আফিল উদ্দিন। তাকে না পেয়ে দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে তার গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে। ঝিকরগাছা শহরে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ও মুসা মাহমুদের সমর্থকদের মধ্যে বোমা-গুলির লড়াই হয়। শেখ আফিলউদ্দিন বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েও এখনও শপথ নিতে পারেননি। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাসেট কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্কের ঝড় ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরে ঝিকরগাছা শহরের কৃষ্ণনগর কাটাখাল এলাকায় উপজেলা  চেয়ারম্যান প্রার্থী মুসা মাহমুদ ও মনিরুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় দু’পক্ষই দা, কুড়াল, হকিস্টিক, বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। বোমা-গুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী মনিরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আর মুসা মাহমুদ একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। সন্ত্রাসী ঘটনার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে যশোরের রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এএনএম মঈনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করছেন।
এজেন্টের বৈঠকে হামলা
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টের বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৫ জন আহত হন। গতকাল বিকাল ৫টায় উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আফতাব আহাম্মদ বাচ্চুর বাড়িতে বিএনপি’র প্রার্থী মোটরসাইকেল মার্কার সমর্থনে ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের মতবিনিময় করার সময় প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালিয়ে একটি পাজেরো গাড়ি, ২টি মোটরসাইকেল, ২টি সিএনজি ভাঙচুর করে। এ সময় মোটরসাইকেল সমর্থকরা বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ৫ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- মো. শাহজাহান (৩৬), আরিফুর রহমান শুভ (২৫), শাহীন (২৮), হুমায়ুন (৩২) ও কামাল (২৯)। মামলা-হামলার ভয়ে আহতদেরকে গোপনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সকাল ১১টায় চরএলাহী ইউনিয়নের কিল্লাবাজার নামক স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিএনপি প্রার্থীর লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে ৩ জনকে আহত করে।
বিএনপি-জামায়াতের ৩শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরের চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পরিকল্পিত এ বোমা হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিএনপির সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। এলাকাবাসী ও একাধিক সূত্র জানায়, ফুলসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমানের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে এলাকায় ব্যাপকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ বাধে। মঙ্গলবার রাত ১টায় মাসুদ দলীয় কর্মীদের নিয়ে তার সলুয়া আফরার মোড় সংলগ্ন বাড়ির নিচের ঘরে বসে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ভোটার তালিকা নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা ওই ঘরের জানালায় বোমা হামলা চালায়। বোমার শব্দে নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। বোমার আঘাতে বন্ধ জানালার লোহার পাটাতন ছিন্নভিন্ন হলেও নেতাকর্মীরা কেউ আহত হননি। এ ঘটনা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী মাসুদ চৌধুরী জানান, অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এ হামলার পর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্যই বিএনপির সন্ত্রাসীরা এ বোমা হামলা চালিয়েছে। সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বোমার আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে ঝিকরগাছায় গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, গতকাল বিকাল ৪টায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুছা মাহমুদের বাড়ির সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ভোটার কালেকশনসংক্রান্ত বিষয়ে শলাপরামর্শ করছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলামের পক্ষীয় নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে সেখানে বোমা হামলা চালায়। এ সময় মুছা সমর্থকরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা এ সময় বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃদু লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে যশোরের বাঘারপাড়ার রায়পুর বাজারেও ঘটেছে বোমা হামলার ঘটনা। গতরাতে কে বা কারা আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুর রউফের গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোমা হামলা করে। এতে নজরুল নামে এক কর্মী আহত হয়েছেন। রউফের বহনকারী গাড়ির গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তার কর্মী সমর্থকরা দাবি করেছে। এদিকে এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করে থানায় মামলা করেছে হামলার শিকার সংশ্লিষ্টরা।
ইউপি চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাত
মোজাম্মেল হোসেন সজল, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানপ্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় মুন্সীগঞ্জের মহাকালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোনা মিয়া মাদবর (৬৫) তার বাড়িতে ঢুকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাকালী ইউনিয়নের সাতানিখিলস্থ চেয়ারম্যানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেলা ১১টার দিকে শহরস্থ থানারপুল এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপিদলীয় সাবেক উপমন্ত্রী, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ও দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তি বলেন, মহাকালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক সোনা মিয়া মাদবরকে গত এক সপ্তাহ ধরে চরাঞ্চলের চরকেওয়ারের শীর্ষ সন্ত্রাসী আফজাল, রিপন গ্লাসি, বাবু, রতন, হিরু গং আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসুজ্জামানের দোয়াত কলমের পক্ষে কাজ করার জন্য নানা হুমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই গং চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তারা বলেন, আজ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। অথচ গতকাল পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোটদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যারা আছে, তাদেরকে নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে। অনেককে নির্বাচনের দিন ঢাকায় থাকতে বলা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন রকম সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বিঘ্নে ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহিত করার জন্য এলাকায় রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে কোন মাইকিংও করা হচ্ছে না।
বরিশালে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সদর উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি হলেও বিশিষ্ট শিল্পপতি সাইদুর রহমান রিন্টুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ এনেছে বিএনপি। অন্যদিকে নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জঙ্গি ভাড়া করে বরিশালে নিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। বিগত উপজেলা নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলায় জয়লাভ করে বিএনপির আজিজুল হক আক্কাস। তবে উন্নয়নে সে ধরনের কোন বাজেট না থাকায় উন্নয়নবঞ্চিত থাকে পুরো উপজেলা। আর এ বিষয়টি সামনে এনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইদুর রহমান রিন্টু ও তার সমর্থকরা। প্রচার-প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন এমপি। দফায় দফায় বৈঠক করছেন তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে। অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক মজিবর রহমান সরোয়ার রয়েছেন প্রার্থী এনায়েত হোসেন বাচ্চুর সঙ্গে। দলীয় বিবেচনায় ভোট দিলে বাচ্চুর জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে উন্নয়ন ও প্রার্থী বিবেচনায় ভোট হলে রিন্টু এবার চমক দেখাতে পারেন। আওয়ামী লীগও এবারের নির্বাচনে যে কোন ধরনের এ আসনটি দখলে নিতে বদ্ধ পরিকর বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমান রিন্টুর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে বলা হয়, বিএনপি ক্যাডাররা জঙ্গি ও জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে। যে কোন সময় তারা বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি শওকত হোসেন হিরন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে আরও বলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের লাঠিসোটা নিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক চলছে। এরই মধ্যে উপজেলা ছাত্র ও যুবদলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক আটক হয়েছেন ৩ জন। বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার। সব মিলিয়ে আজকের নির্বাচন নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে টানটান উত্তেজনা।