খাগড়াছড়িতে আদিবাসী তরুণী হত্যার জের, সংঘর্ষ,আহত ৭, ১৪৪ ধারা

Khagracoryখাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়ি এলাকায় বুধবার সকালে আবারো আদিবাসী-বাঙালি সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কমলছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি উপজেলায় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, বেতছড়ি মুখ গ্রামের রমাদেবী চাকমা (৫৫), তার পুত্র বিপ্লব জ্যোতি চাকমা (৩৫), রেজাউল করিম (৩৫), রিপন তরফদার (৫৬), জাহেদুল (২৫), মো. শাহজাহান ও শহীদ বিশ্বাস। আহতদের প্রথম দুই জন ধারালো দায়ে কোপে ও বাকী পাঁচজন কান্তার গুলতিতে (দেশীয় অস্ত্র) আহত হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে বিপ্লব জ্যোতি চাকমার স্ত্রী সমরানী চাকমা অভিযোগ করেন, ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের বাঙালিরা বুধবার সকাল ১১টায় বাড়ির অদূরে নলকূপের পাশে স্বামী ও শ্বাশুড়ীকে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল। এ সময় তারা সেখানে গোসল করতে গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে আমরা কোন রকমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হই। এরপর বাঙালিরা আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম হাসপাতালের বিশানায় শুয়ে জানান, মঙ্গলবার গ্রামের এক রাখা ছেলে নিখোঁজ হয়। তাকে খুঁজতে বুধবার সকালে গুচ্ছগ্রামের অদূরে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ হামলায় পাঁচ জন আহত হন।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি ও সেনা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কমলছড়ি ইউনিয়নের আপার বেতছড়ি গ্রামের পশ্চিমপাড়া চৈত্য আদর্শ বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু শ্রীমৎ প্রজ্ঞাদ্বীপ ভিক্ষু অভিযোগ করেন, সকালে শতাধিক বাঙালি ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রাম থেকে এসে আমার গ্রামের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা বিহারের কিছু জিনিসপত্র তচনছ ও চারটি পিতলের বৌদ্ধ মুর্তি লুট করে নিয়ে যায়। অবশ্যই এ অভিযোগ বাঙ্গালীরা অস্বীকার করে।

জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলার উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কমলছড়ি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইন শৃংখলা বিষয়ক বৈঠক করে। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এ দিকে জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোছা. আনার কলি জানান, বুধবার বিকাল ৪ টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনা শুনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ান হই। পুলিশ পৌঁছার পর আর কোন সংঘর্ষ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ মামলা দায়ের করেনি। রাতে ভূয়াছড়ি এলাকায় চারটি পুলিশের দল ও বিজিবি, সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল অব্যাহত রাখবে। তিনি জনগণকে অযথা গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান।