নাটোরে বসুন্ধরা গ্র“পের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকার মানহানীর মামলা

natorশেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি   :
নাটোরে বসুন্ধরা গ্র“পের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবাহান ওরফে শাহ আলম সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকার মানহানীর মামলা করা হয়েছে। নাটোরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী মোলার আদালতে দৈনিক যুগান্তরের নাটোর প্রতিনিধি (ষ্টাফ রিপোর্টার) মোঃ মাহ্ফুজ আলম মুনী বাদী হয়ে জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোঃ আব্দুল মান্নান সরকারের মাধ্যমে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ২২ মে তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশ দেন। দৈনিক কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাটোর প্রতিনিধি মোঃ নাসিম উদ্দিন ও দৈনিক কালের কন্ঠের নাটোর প্রতিনিধি মোঃ রেজাউল করিম রেজাকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। মামলার আর্জিতে বাদী অভিযোগ করেন যে, তিনি নাটোর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার সভাপতি। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি যমুনা গ্র“পের মালিকানাধীন বহুল প্রচারিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার নাটোর প্রতিনিধি হিসেবে এবং সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতার এর নাটোর প্রতিনিধি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাংবাদিকতা করছেন। বহুল সমালোচিত আবাসন শিল্প বসুন্ধরা গ্র“পের চেয়ারম্যান ১নং আসামী বেশ কিছুদিন ধরে অন্যান্য আসামীদের সাথে যোগসাজস করে বাদী, বাদীর কর্মক্ষেত্র দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ও যমুনা গ্র“পের প্রতিষ্ঠান যমুনা ডিস্টিলারির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই আসামীরা পরস্পর মিলে গত ২৫ ফেব্র“য়ারী কালের কন্ঠ পত্রিকার শেষ পাতায় ‘বাবুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা, শাস্তির দাবিতে ঝাড়– মিছিল’ এবং একই তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার শেষ পাতায় ‘যমুনার বাবুলের বিরুদ্ধে নাটোরে ঝাড়–মিছিল’ শিরোনামে মানহানিকর ও বেআইনী সংবাদ পরিবেশন করেছেন। দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার খবরের একটি অংশে ‘এতে যমুনা গ্র“প অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ও যমুনা গ্র“পের মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রকাশক সালমা ইসলাম ক্ষুুব্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়ে যুগান্তরের নাটোর প্রতিনিধি মোঃ মাহ্ফুজ আলম মুনীকে সাংবাদিক নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে মোঃ মাহফুজ আলম মুনী যুগান্তর পত্রিকায় মনগড়া, মিথ্যা, কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদ পাঠান’ বলে উলেখ করেছেন। কল্পনা প্রসূত এই বক্তব্যে আমার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তাতে অন্ততঃ দশ কোটি টাকার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রকাশিত ওই খবরে এবং খবরের সাথে থাকা ছবিতে ‘নারদ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে যে সংগঠনটির নাম উলেখ করা হয়েছে তা বসুন্ধরা গ্র“পের তথা আসামীদের একটি সাজানো নাটক মাত্র। প্রকৃতপক্ষে আসামীরা তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাড়াটে লোকজনকে ব্যবহার করেছেন মাত্র। এই মামলার সাক্ষীগণ ৪নং আসামীকে তথাকথিত এই সংগঠনের ব্যানার তৈরী ও লোকজনকে জড়ো করতে এবং ঝাড়– সরবরাহ করতে দেখেছেন। তাঁদের যুগান্তর পত্রিকার কয়েকটি কপি পুড়িয়ে ফেলতেও দেখেছেন। আসামীরা বাদী ও তাঁর গ্র“পের সন্মানিত ব্যক্তিদের সুনাম নষ্টের অসৎ উদ্দেশ্যে কথিত একটি রিপোর্ট সৃষ্টির জন্য এই অপতৎপরতা চালিয়েছেন। তৎপরতার অংশ হিসেবে উলেখিত খবরের সাথে যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যানের বড় ছবিসহ ডিজিটাল ব্যানার উপস্থাপন ও ঝাড়– প্রদর্শন ইত্যাদির আয়োজন করেছেন। কালের কন্ঠের খবরের মধ্যে ‘যমুনা ডিস্টিলারি তিন যুগের বেশি সময় ধরে নারদ নদে অনবরত দূষিত ও বিষাক্ত বর্জ্য ফেলায় জনজীবন আজ হুমকির সম্মুখীন’ ও  ‘যমুনা গ্র“পের অন্যায় কাজের অংশীদার পারিবারিক মুখপত্র দৈনিক যুগান্তর মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন’ ইত্যাদি অবান্তর মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। এছাড়া খবরের একটি অংশে ‘ভবিষ্যতে এ ধরণের সংবাদ প্রকাশ করা হলে নাটোর জেলায় যুগান্তর পত্রিকা ঢুকতে দেওয়া হবে না’ মর্মে তথ্য প্রকাশ করে অপরাধজনক কর্মকান্ড সংঘটনের উস্কানি ও হুমকি দিয়েয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে যারা হারাম পানীয় বাজারজাত করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব’ বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যা তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় অপরাধজনক কর্ম বটে। এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে আসামীরা ধর্মীয় উস্কানি প্রদান করেছেন যা জঙ্গি তৎপরতাকে উৎসাহিত করবে, সমাজে শান্তি বিনষ্ট করবে ও আইন শৃংক্ষলা বিঘিœত হবে। ওই খবরে ‘নাটোরে অবস্থিত যমুনা ডিস্টিলারিজের মদ খেয়ে দেশের ১০টি জেলায় মাদক ট্রাজেডির ঘটনায় ৬০০ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।’ বলে উলেখ করা হয়েছে যার সমর্থনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোন তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এতে বাদীর তথা যমুনা গ্র“প সামাজিকভাবে, আর্থিকভাবে ও নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একই খবরে ‘গণহত্যা করার পরও হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মামলাগুলো ধামাচাপা দিয়েছে তারা’ বক্তব্য তুলে ধরার মাধ্যমে আসামিরা আইন আদালতকে অবজ্ঞা করেছেন। এটা আইন শৃংক্ষলাবাহিনীর জন্য মানহানিকর ও আদালত অবমাননার সামিল। এজন্য আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। এসব ঘটনা সাক্ষীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারবেন বলে বাদী দাবী করেছেন। এই মামলায় নাটোর শহরের রেজাউল করিম মিন্টু, মুনজুর ই মওলা, ফয়সাল ইসলাম ও মাসুদ রানাকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনে ২৫/০২/২০১৪ইং তারিখে প্রকাশিত দৈনিক কালের কন্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার কপিও সরবরাহ করা হয়।