দিনাজপুরে উলঙ্গ নৃত্য আর হাউজি-জুয়ার জমজমাট আসর

Dinajpur-Cheradangy Mela-Oshlilotaনুরন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
কোন মেলা-পার্বণ ছাড়াই দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায়  ইনডোর গেম এবং কালচারাল প্রোগ্রামের নামে  চলছে  উলঙ্গ নৃত্য আর হাউজি-জুয়া,লটারীর জমজমাট আসর । এতে নৈতিক অধঃপতনে পড়েছে  কিশোর ও যুব-সমাজ । অবৈধ হাউজি ও জুয়ার আসরে নি:শেষ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘটছে,আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।  তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি এসনি ভয়াবহতায় দাঁড়িয়েছে যে  সংসদ সদস্য বলেছেন, প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে তা উচ্ছেদ করবেন।

দিনাজপুর-বীবগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন কাহারোল উপজেলার রামপুর বটতলী বাজার এলাকায় বিশাল সু-সজ্জিত গেটের তোরণে শোভা পাচ্ছে“ মহামান্য হাইকোর্ট অনুমোদিত-বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ওয়েলফেয়ার ক্লাবের সৌজন্যে বিভিন্ন রকম ইনডোর গেম এবং কালচারাল প্রোগ্রাম চলিতেছে।”

কিন্তু এখানে ইনডোর গেম এবং কালচারাল প্রোগ্রামের নামে চলছে যাত্রায় উলঙ্গ নৃত্য আর হাউজি-জুয়া,লটারীর জমজমাট আসর । পাশ্বেই রয়েছে,মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা। এর পর চলছে এসএসসি পরীক্ষা। এ অবস্থায় কোন মেলা-পার্বণ ছাড়াই খেলা আর চিত্ত-বিনোদনের নামে উলঙ্গ নৃত্য আর হাউজি-জুয়া,লটারীর  আসর  বসায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু প্রশাসন এলআর ফান্ডে উৎকোচ নিয়ে তা দেখেও না দেখার ভান করছে। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

বাঙ্গালী জাতির  এই আদি সংস্কৃতি যাত্রা গানের নামে চলছে উলঙ্গ নৃত্য আর অপসংস্কৃতি। এতে নৈতিক অধঃপতনে পড়েছে  কিশোর ও যুব-সমাজ । অবৈধ হাউজি ও জুয়া.লটারীর আসরে নি:শেষ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘটছে,আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমিও অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু বিষয়টি জেলা প্রশাসকের আয়ত্ত্বে রয়েছে। জেলা প্রশাসক চাইলে আমি আধা ঘন্টার মধ্যে সব ভেঙ্গে দিবো।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এ ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ আমার এলাকায় কোথাও প্রদর্শিত হোক এটা আমি চাইনা। কিন্তু তারা একটা কাগজ দেখিয়ে বলছে, হাইকোর্টের আদেশ বলে তারা এগুলো চালাচ্ছে। যদিও মহামান্য হাইকোর্ট এমন কোন অসামাজিক কার্যকলাপের অনুমতি দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। এ প্রসঙ্গে আমি স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেছি।  প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে দু’এক দিনের মধ্যে আমি নিজেই স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে তা উচ্ছেদ করবো।

গংসদ সদস্য গোপাল আবর জানান, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কাহারোল উপজেলার রামপুর বটতলী বাজার সংলগ্ন ওই জায়গাটা যার ওই জায়গার মালিকও জানেন না তার জায়গায় এ ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তিনি বলেন এগুলোকে মেনে নেয়া যায়না। এসএসসি পরীক্ষা চলছে। এটাকে কেন্দ্র কওে স্থানীয় ক্রাইম বেড়ে যাচ্ছে। যদি প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে মানুষের উপরেতো কোন আইন নাই। জনগনেই এটার ব্যবস্থা করে দিবে।

ঐতিহ্যবাহী যাত্রা শিল্পে অপসংস্কৃতি  অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক । তিনি বলেছেন,যাত্রা অনুমতি আমরা দিতে পারি। কিন্তু কোন অসামাজিক কার্যকলাপ,বা জুয়া-হাউজি-লটারীর অনুমোদন দেয়ার অধিকার আমাদের নাই। কিন্তু কোন কোন দুষ্ট েেলাক যাত্রার অনুমতি নিয়ে গিয়ে ওখানে নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপসহ অন্যায় কাজ চালিয়ে আসছে।এ পর্যস্ত এধরনের কোন অভিযোগ পেলেই আমার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।  এ ক্ষেতেও এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমারা ব্যবস্থা নিবো।

ইনডোর গেম এবং কালচারাল প্রোগ্রামের নামে যে উলঙ্গ নৃত্য আর হাউজি-জুয়া,লটারীর জমজমাট বসিয়েছে সেই আয়োজক  তোফাজ্জলের সাথে এ বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠো ফোনে তার সাথে কথা বলা হয়েছে। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানাতে চেয়ে বেশ কয়েকবার আসবেন বলেও আসেননি। দেখাতে পারেনি অনুমোদনের কোন বৈধ কাগজ-পত্র।

এই অবৈধ হাউজি ও জুয়ার জমজমাট আসরে নি:শেষ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘটছে,আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের দাবি এলাকার  বিশিস্টজনরা। ।