মনিরামপুরের প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতা পেটা করল অভিভাবক

joishorমোঃ মনোয়ার হোসেন,মনিরামপুর (যশোর), প্রতিনিধি :
যশোরের মনিরামপুরের ছিলুমপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করল এক ছাত্রির ভাই ও তার বন্ধুরা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় ছিলুমপুর বাজারে।

খোজ নিয়ে জানাযায়, বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্ণিতির দায়ে অভিযুক্ত ছিলুমপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের নিকট বছরের শুরুতেই উক্ত স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী জুলিয়া খাতুন অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট ছাড়পত্রের জন্য একটি আবেদন করে। জুলিয়া খাতুন খানপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া খানপুর গ্রামের তারা বিশ্বাসের মেয়ে। জুলিয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। অভিযোগ বয়েছে প্রধান শিক্ষক ওই আবেদন পত্রের ভুল দেখিয়ে আবেদন পত্র ফিরিয়ে দেন। জুলিয়া খাতুন জানান, পরবর্তীতে অপর একটি আবেদন লিখে জমা দিলেও সেটি ভুল দেখিয়ে আমার সামনে ছিড়ে ফেলেন। তারপর আমার বড় ভাই বাবু বিশ্বাসকে বললে তিনি প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে একটি খসড়া নিয়ে আমাকে দিলে সে মোতাবেক একটি আবেদন পত্র লিখে প্রধান শিক্ষক বরাবর জমা প্রদান করি। প্রায় ২৫ দিন পূর্বে উক্ত আবেদন পত্র জমা দিলেও স্যার আমাকে ছাড় পত্র দেন নায়। উলেখ্য, ছিলুমপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু না থাকায় জুলিয়া খাতুন পার্শবর্তী গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়।

জুলিয়ার ভাই ছিলুমপুর বাজারের ব্যবসায়ী বাবু বিশ্বাস জানান, জুলিয়াকে গোপালপুর স্কুলে ভর্তি করার জন্য বারবার প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের নিকট ধন্না ধরেও কোন ফল পাচ্ছিনা। নানান অযুহাত দেখিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। সে কারনে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে জুল বক্কারের হোটেলের সামনে পেয়ে নিজেকে সামলাতে নাপেরে পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে তার দুই গালে দুটি বাড়ি দিয়েছি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, জুলিয়াকে আমারা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করছি। আর আমাদের কাছে কিছুই জিজ্ঞাসা না করে জুলিয়াকে মানবিক বিভাগে উক্ত স্কুলের মাধমে রেজিষ্টেশন করে ফেলেছে।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, জুলিয়া আমার বিদ্যালয়ে জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ ক্লাস করেছে। তিনি অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, এটা মূল সমস্যা নয়। আমার স্কুলে সহকারী শিক্ষক(সমাজ বিজ্ঞান) পদে একজন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। ওই পদের জন্য আমি এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম হোসেন চাচ্ছিলাম আমার স্কুলের সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন মাষ্টারের মেয়ে জেসমিন খাতুনকে নিয়োগ দিতে। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির অন্য সব সদস্য ও এলাকার লোকজন চাচ্ছে স্থানীয় কবির সরদারের ছেলে বাহারুলকে নিয়োগ দিতে। আর সে কারনেই আমাকে এ ভাবে বাজারের মধ্যে ফেলে অপমান করেছে।