মধ্যপাড়া খনিতে নতুন করে পাথর উৎপাদন র্কাযক্রম শুরু

মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, বিরামপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে খনি শ্রমিক আন্দোলন এবং নতুন চুক্তির কারনে প্রায় ৩ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে নতুন প্রযুক্তিতে আজ রোববার থেকে নতুন চুক্তিবদ্ধ বেসরকারী কোস্পানী জিটিসি’র নতুন করে পাথর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশার আরো দেখতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিটি।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা-ব্যবস্থাপক অপারেশন মীর আঃ হান্নান জানান, গত বছরের ২৬  নভেম্বর  থেকে জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনসোটিয়াম( জিটিসি) সাথে খনির দায়িত্বভার গ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করে গত ২০ ফ্রেব্র“য়ারী হস্তান্তর ও গ্রহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কোম্পানীটি চুক্তির শর্তানুযায়ী গত ২৭ জানুয়ারী নতুন করে খনি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। গত ১৮ ও ১৯ ফেব্র“য়ারী জিটিসি ১৮৯ জন খনি শ্রমিককে নিয়োগ দিয়ে গত শনিবার উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে আজ রোবাবার থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড গত ২৫/৫/২০০৭ ইং তারিখ থেকে প্রায় ৭ বছর ধরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে চলতে যখন লোকসানী প্রতিষ্ঠানে খনিটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল তখন গত ০২/০৯/২০১৩ ইং তারিখে ১ হাজার ৪ শ কোটি টাকা ব্যায়ে খনির উৎপাদন ও ম্যানেজমেন্ট চুক্তি হয় জামার্নিয়া ট্রেস্ট কনসোটিয়াম এর সাথে। বেসরকারী কোম্পানীটি  চুক্তির পর গত ২০ ফেব্র“য়ারী তাদের দায়িত্বভার বুঝে নিয়ে নতুন করে খনি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে আজ রোববার থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিটি উৎপাদনের শুরু থেকে এক শিফটে প্রতিদিন  প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার দুই শত মেট্রিক টন পাথর উৎপাদন করত। ফলে দেশে পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হত না। এতে করে কোম্পানীটি লাভের মুখ দেখতে পায়নি। লোকসানী এই প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করতে, আমদানী নির্ভরতা কমাতে এবং দেশে পাথরের চাহিদা পূরণ করতে সরকার খনির অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, উন্নয়ন, উৎপাদন মেইনটেনেন্স এবং প্রভিশনি সার্ভিস চুক্তি করে জামার্নিয়া কোম্পানী লিমিটেড, ঢাকা, বাংলাদেশ এবং বেলারুশ সরকারের জেএসসি ট্রেস্ট কোম্প্নাীর সাথে।

নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশী দক্ষ খনি শ্রমিক এবং বিদেশী দক্ষ জনবল দিয়ে খনিতে তিন শিফটে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথন উত্তোলন আশা করছেন বলে কোম্পানীটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।